১/৭. অধ্যায়ঃ
দ্বিপ্রহরে (প্রখর রৌদ্রতাপে) নামায আদায় নিষেধ
গরমে নামায দেরিতে আদায়: হাদিসের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلَاةِ وَقَالَ اشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ فِي كُلِّ عَامٍ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ.
আতা ইবনু ইয়াসার (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জাহান্নামের মূল হতেই প্রখর গ্রীষ্মের উৎপত্তি। তাই প্রচণ্ড গ্রীষ্মের সময় নামায দেরিতে আদায় কর। তিনি আরও বললেন, (জাহান্নামের) অগ্নি তাঁর নিকট ফরিয়াদ জানিয়ে বলল, হে রব! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলল। অতঃপর (আল্লাহ তা’আলা) উহাকে বছরে দু’বার শ্বাস ছাড়ার অনুমতি দিলেন-এক শ্বাস শীতকালে আর অপর শ্বাস গ্রীষ্মে। (মালিক (রঃ) একাই বর্ণনা করেছেন, এবং এই হাদীসের সমর্থনে মুয়াত্তা, বুখারী মুসলিম সহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে হাদীস পাওয়া যায়)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রচণ্ড গরমের সময় নামায দেরিতে আদায় করার শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রখর গ্রীষ্ম জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। তাই গরম খুব বেড়ে গেলে নামায দেরিতে আদায় করতে বলা হয়েছে। বর্ণনায় আরও এসেছে, জাহান্নামের আগুন তার রবের কাছে অভিযোগ করেছিল যে তার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। তখন তাকে বছরে দুইবার শ্বাস ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়—একবার শীতে, একবার গ্রীষ্মে। এই কথাগুলো আমাদের মনে ভয় ও সতর্কতা জাগায়। একই সঙ্গে নামায আদায়ে সহজতার দিকও দেখায়। প্রচণ্ড গরমে মানুষের কষ্ট বেশি হলে নামায একটু ঠান্ডা সময়ে আদায় করা যেতে পারে—হাদিসের মূল নির্দেশ এইটিই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রচণ্ড গরমে মানুষের কষ্ট বিবেচনায় নামায দেরিতে আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
- গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপের কথা স্মরণ করায়।
- নামায আদায়ে শরীরের কষ্ট কমানোর দিকটি এই বর্ণনায় দেখা যায়।
- হাদিসটি গরম ও শীতকে আল্লাহর সৃষ্ট নিদর্শনের মতো ভাবতে শেখায়।
