২০/৫৩. অধ্যায়ঃ
আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান
আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান: হজ্জের সীমা ও শুদ্ধ আচরণের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮৬১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮৬১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ اعْلَمُوا أَنَّ عَرَفَةَ كُلَّهَا مَوْقِفٌ إِلَّا بَطْنَ عُرَنَةَ وَأَنَّ الْمُزْدَلِفَةَ كُلَّهَا مَوْقِفٌ إِلَّا بَطْنَ مُحَسِّرٍ ১৪৫قَالَ مَالِك قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ } قَالَ فَالرَّفَثُ إِصَابَةُ النِّسَاءِ وَاللهُ أَعْلَمُ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ } قَالَ وَالْفُسُوقُ الذَّبْحُ لِلْأَنْصَابِ وَاللهُ أَعْلَمُ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ }.قَالَ وَالْجِدَالُ فِي الْحَجِّ أَنَّ قُرَيْشًا كَانَتْ تَقِفُ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ بِالْمُزْدَلِفَةِ بِقُزَحَ وَكَانَتْ الْعَرَبُ وَغَيْرُهُمْ يَقِفُونَ بِعَرَفَةَ فَكَانُوا يَتَجَادَلُونَ يَقُولُ هَؤُلَاءِ نَحْنُ أَصْوَبُ وَيَقُولُ هَؤُلَاءِ نَحْنُ أَصْوَبُ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى وَ { لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ } فَهَذَا الْجِدَالُ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ وَقَدْ سَمِعْتُ ذَلِكَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ
আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রা) হতে বর্ণিতঃ
তোমরা বিশ্বাস কর ‘বাতনে উরানা’ ব্যতীত সমগ্র আরাফাতের ময়দানই অবস্থান করার স্থান, এমনভাবে বাতনে মুহাসসির ব্যতীত মুযদালিফার সারাটা ময়দানেই অবস্থান করা যায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনفَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ [১] ‘রাফাস’ অর্থ হল স্ত্রীসম্ভোগ। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। আল্লাহ্ তা’আলা অন্যত্র ইরশাদ করেনأُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ [২]মালিক (র) বলেন, ফুসুক অর্থ হল, দেব- দেবীর নামে পশু উৎসর্গ করা, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন,أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ [৩] মালিক (র) বলেন, হজ্জে জিদাল বা ঝগড়া-বিবাদ হল, কুরাইশ গোত্রের লোকজন তৎকালে হজ্জের সময় মুযদালিফার কুযাহ্ নামক স্থানে অবস্থান করত। আর অন্যরা আরাফাতে অবস্থান করত। উভয় দল তখন পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হত, একদল বলত, আমরাই সত্যপথের অনুসারী; অপর দল বলত, আমরাই কেবল সত্যপথের অনুসারী। আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত নাযিল করে ইরশাদ করলেন,لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ [৪] হজ্জের সময় ঝগড়া-বিবাদ বলতে এই কথাই বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ অধিক জ্ঞাত। আলিমগণের নিকটও আমি এই ব্যাখ্যা শুনেছি।
[১] হজ্জের সময়ে স্ত্রীসম্ভোগ অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ বিধেয় নয়। ২ ঃ ১৯৭[২] সিয়ামের রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রীসম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। (সূরা: আল-বাকারাহ, ১৮৭)[৩] অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে। (সূরা: আল-মায়িদাহ, ১৪৫)[৪] আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি ‘ইবাদত পদ্ধতি’ যা তারা অনুসরণ করে সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে বিতর্ক না করে এই ব্যাপারে। তুমি তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহবান কর। তুমিতো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত। (সূরা: হাজ্জ, ৬৭)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থানের জায়গা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। বাতনে উরানা ছাড়া পুরো আরাফাত অবস্থানের স্থান, আর বাতনে মুহাসসির ছাড়া পুরো মুযদালিফা অবস্থানের স্থান। তাই হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোতে স্থান-সীমা জানা জরুরি। এরপর ইমাম মালিক (র) কুরআনের আয়াতের আলোকে হজ্জে তিনটি বিষয় থেকে বাঁচার কথা ব্যাখ্যা করেছেন: রাফাস, ফুসুক ও জিদাল। এখানে রাফাসকে স্ত্রীসম্ভোগ, ফুসুককে আল্লাহ ছাড়া অন্য নামে পশু উৎসর্গ করা, আর জিদালকে হজ্জ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হিসেবে বোঝানো হয়েছে। হজ্জ শুধু শরীরের সফর নয়; এটি শৃঙ্খলা, তাওহীদ ও শান্ত আচরণের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাতনে উরানা ছাড়া আরাফাতের পুরো ময়দান অবস্থানের স্থান হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- বাতনে মুহাসসির ছাড়া মুযদালিফার পুরো ময়দান অবস্থানের জায়গা হিসেবে এসেছে।
- হজ্জে রাফাস, ফুসুক ও জিদাল থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
- ইবাদতে নিজের দল বা মত নিয়ে ঝগড়া না করে আল্লাহর নির্দেশ মানাই মূল শিক্ষা।
