১২/১. অধ্যায়ঃ
সালাতুল কুসূফ-এর (সূর্যগ্রহণের নামায) বিবরণ
সূর্যগ্রহণের নামাজ: আল্লাহর নিদর্শন দেখে দোয়া, তাকবীর ও সদকা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৩০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৩০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ خَسَفَتْ الشَّمْسُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ فَقَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتْ الشَّمْسُ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللهَ وَكَبِّرُوا وَتَصَدَّقُوا ثُمَّ قَالَ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللهِ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرَ مِنْ اللهِ أَنْ يَزْنِيَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِيَ أَمَتُهُ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا.
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে একবার ‘সূর্যগ্রহণ’ হল। তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন, তিনি নামাযে দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন। অতঃপর রুকূ করলেন অনেক দীর্ঘ রুকূ। তারপর দাঁড়ালেন দীর্ঘক্ষণ; কিন্তু প্রথম দাঁড়ানো অপেক্ষা কম, তারপর রুকূ করলেন; রুকূকে দীর্ঘ করলেন; তবে এটা ছিল পূর্বের রুকূ অপেক্ষা কম। তারপর পবিত্র শির উঠালেন এবং সিজদা করলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক’আতেও প্রথম রাক’আতের মত কার্যাদি সম্পন্ন করলেন; তারপর নামায সমাপ্ত করলেন। অতক্ষণে সূর্য দীপ্যমান ও উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন। তিনি (খুতবার প্রথমে) আল্লাহর প্রশংসা ও হামদ বর্ণনা করলেন এবং বললেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর কুদরতের নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কোন ব্যক্তির মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে উহাদের গ্রহণ হয় না। যখন তোমরা উহা দেখতে পাও, তখন আল্লাহর কাছে দু’আ করবে এবং আল্লাহর তাকবীর উচ্চারণ করবে আর সদকা প্রদান করবে। অতঃপর ফরমালেন হে উম্মতে মুহাম্মদী! আল্লাহর কসম, তিনি অপেক্ষা অধিক অভিমানী বা ঘৃণাকারী আর কেউ নেই। মুহাম্মদী! আল্লাহর কসম, যদি তোমরা অবগত হতে, যা আমি অবগত আছি, তা হলে নিশ্চয় তোমরা কম হাসতে ও অধিক কাঁদতে। (বুখারী ১০৪৪, মুসলিম ৯০১)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাজের পদ্ধতি ও খুতবার শিক্ষা এসেছে। তিনি লোকদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। নামাজে দীর্ঘ কিয়াম করলেন, দীর্ঘ রুকূ করলেন, আবার দাঁড়ালেন, তবে আগের দাঁড়ানোর চেয়ে কম। দ্বিতীয় রুকূও দীর্ঘ ছিল, তবে প্রথমটির চেয়ে কম। এরপর সিজদা করলেন এবং দ্বিতীয় রাকআতেও একই ধরনের আমল করলেন। নামাজ শেষে সূর্য পরিষ্কার হলে তিনি খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন, কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এদের গ্রহণ হয় না। গ্রহণ দেখলে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে, তাকবীর বলতে এবং সদকা দিতে বলা হয়েছে। হাদিসের শেষে আল্লাহভীতি ও আখিরাতের গভীর স্মরণও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয় না।
- গ্রহণ দেখলে দোয়া, তাকবীর ও সদকার কথা বলা হয়েছে।
- সূর্যগ্রহণের নামাজে দীর্ঘ কিয়াম ও রুকূর বর্ণনা এসেছে।
- আল্লাহভীতি ও আখিরাতের চিন্তা মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলা উচিত।
