১/৫. অধ্যায়ঃ
নামাযের সময় সম্পর্কীয় বিবিধ রেওয়ায়ত
অজ্ঞান হলে নামাযের কাযা: সময় থাকলে কী করবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ أُغْمِيَ عَلَيْهِ فَذَهَبَ عَقْلُهُ فَلَمْ يَقْضِ الصَّلَاةَ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ فِيمَا نَرَى وَاللهُ أَعْلَمُ أَنَّ الْوَقْتَ قَدْ ذَهَبَ فَأَمَّا مَنْ أَفَاقَ فِي الْوَقْتِ فَإِنَّهُ يُصَلِّي
নাফি’ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) একবার জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। (হুঁশ ফিরে আসার পর) তিনি আর নামাযের কাযা আদায় করলেন না।মালিক (র) বলেন, আমাদের মতে এটা এইজন্য যে, নামাযের সময় চলে গিয়েছিল। আর নামাযের সময় থাকতে যে জ্ঞান ফিরে পায় সে নামায আদায় করবে (আল্লাহ সর্বজ্ঞ)। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি একবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে হুঁশ ফিরে এলে তিনি সেই ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা আদায় করেননি। ইমাম মালিক (র) এ বিষয়ে বলেন, তাঁদের মতে এর কারণ হলো নামাযের সময় চলে গিয়েছিল। আর যে ব্যক্তি নামাযের সময় থাকা অবস্থায় জ্ঞান ফিরে পায়, সে নামায আদায় করবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, জ্ঞান থাকা নামায আদায়ের সঙ্গে যুক্ত। মানুষ অজ্ঞান থাকলে তার সাধারণ সচেতনতা থাকে না। তাই এই বর্ণনায় সময় ও জ্ঞান ফিরে পাওয়ার অবস্থাকে আলাদা করা হয়েছে। আমাদের জন্য দরকার হলো, সুস্থ ও সচেতন অবস্থায় নামাযের সময় হলে তা আদায় করা। আর কোনো বিশেষ অবস্থার মাসআলা হলে আলেমের কাছে জেনে নেওয়া ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামায আদায়ের জন্য জ্ঞান ও সচেতনতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
- সময় থাকতেই জ্ঞান ফিরে এলে নামায আদায় করতে হবে—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
- অজ্ঞান অবস্থার মাসআলা সাধারণ ভুলে যাওয়া বা ঘুমের মতো নয়।
- বিশেষ অবস্থায় নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ইলমওয়ালাদের কাছে জিজ্ঞেস করা নিরাপদ।
