৪৬/১. অধ্যায়ঃ
তকদীরের ব্যাপারে বিতর্ক করা নিষেধ
তাকদীর ও আমলের সম্পর্ক: বান্দার শেষ কাজের গুরুত্ব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬০১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬০১
و حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِسُئِلَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ { وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ } فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسْأَلُ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى خَلَقَ آدَمَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ بِيَمِينِهِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلْجَنَّةِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَعْمَلُونَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلنَّارِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ يَعْمَلُونَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ فَفِيمَ الْعَمَلُ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلْجَنَّةِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُدْخِلُهُ رَبُّهُ الْجَنَّةَ وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلنَّارِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ النَّارِ فَيُدْخِلُهُ رَبُّهُ النَّارَ
মুসলিম ইব্নু ইয়াসার জুহানী (র) হতে বর্ণিতঃ
উমার (রা)-এর নিকট وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ আয়াত সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেন, আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা আদম (আ)-কে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর পৃষ্ঠে স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা মাসেহ করলেন, অতঃপর আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাঁর সন্তানদেরকে বের করলেন এবং বললেন, আমি এদেরকে বেহেশ্তের জন্য সৃষ্টি করেছি। এরা বেহেশতের কাজ করবে। অতঃপর পুনরায় তাঁর পৃষ্ঠদেশে স্বীয় হাত বুলালেন এবং তাঁর আর কিছু সংখ্যক সন্তান বের করলেন এবং বললেন, আমি এদেরকে দোযখের জন্য সৃষ্টি করেছি। এরা দোযখের কাজ করবে। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রসূল! তা হলে আমল করায় লাভ কি ? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা যখন কোন বান্দাকে বেহেশ্তের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা বেহেশতীদের কাজ করান আর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সে নেক কাজ করে মৃত্যুবরণ করে, ফলে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে বেহেশ্তে প্রবেশ করিয়ে থাকেন। আর যখন কোন বান্দাকে দোযখের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা দোযখীদের কাজ করিয়ে থাকেন। অতঃপর মৃত্যুর সময়েও তাকে খারাপ কাজ করিয়েই মৃত্যুবরণ করান। আর আল্লাহ্ তখন তাকে দোযখে প্রবেশ করিয়ে থাকেন। (সহীহ, আবূ দাঊদ ৪৭০৩, তিরমিযী ৩০৭৫, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন ====== শব্দটুকু ব্যতীত, সহীহ ওযয়ীফ সুনানে আবূ দাঊদ)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাকদীর ও আমলের সম্পর্ক খুব গভীরভাবে এসেছে। উমার (রা)-এর কাছে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য বর্ণনা করেন। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ্ আদম (আ)-এর পৃষ্ঠদেশ থেকে তাঁর সন্তানদের বের করেন এবং কারও জন্য জান্নাতের কাজ, কারও জন্য জাহান্নামের কাজ নির্ধারিত হওয়ার কথা বলেন। একজন ব্যক্তি তখন প্রশ্ন করেন, তাহলে আমল করার প্রয়োজন কী? উত্তরে নবীজি জানান, আল্লাহ্ যাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তাকে জান্নাতীদের কাজের দিকে চালিত করেন; আর যাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তার কাজও সে দিকে যায়। এই বর্ণনা মানুষকে আমল ছেড়ে দিতে বলে না; বরং শেষ পর্যন্ত নেক আমলে থাকার গুরুত্ব বুঝায়। তাই তাকদীরের উপর ঈমান রেখে নেক কাজের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া মুমিনের দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীরের উপর ঈমান রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাসের অংশ।
- মানুষের শেষ জীবনের আমল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- তাকদীরের কথা শুনে আমল ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়।
- নেক কাজের পথে অটল থাকা জান্নাতের পথে চলার আলামত হতে পারে।
