৩১/২৩. অধ্যায়ঃ
মজুতকরা এবং মুনাফার অপেক্ষায় থাকা
ইহতিকার বা মজুতদারি সম্পর্কে উমার (রাঃ)-এর শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩২২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩২২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لَا حُكْرَةَ فِي سُوقِنَا لَا يَعْمِدُ رِجَالٌ بِأَيْدِيهِمْ فُضُولٌ مِنْ أَذْهَابٍ إِلَى رِزْقٍ مِنْ رِزْقِ اللهِ نَزَلَ بِسَاحَتِنَا فَيَحْتَكِرُونَهُ عَلَيْنَا وَلَكِنْ أَيُّمَا جَالِبٍ جَلَبَ عَلَى عَمُودِ كَبِدِهِ فِي الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ فَذَلِكَ ضَيْفُ عُمَرَ فَلْيَبِعْ كَيْفَ شَاءَ اللهُ وَلْيُمْسِكْ كَيْفَ شَاءَ اللهُ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, আমাদের বাজারে কেউ ইহতিকার [১] করবে না। যেইসকল লোকের হাতে অতিরিক্ত মুদ্রা রয়েছে সেই সব লোক যেন আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকাসমূহ; হতে কোন জীবিকা [খাদ্যশস্য] ক্রয় করে আমাদের উপর মজুতদারী করার ইচ্ছা না করে। আর যে ব্যক্তি শীত মৌসুমে ও গ্রীষ্মকালে নিজের পিঠে বোঝা বহন করে (খাদ্যশস্য) আনবে সে উমারের মেহমান, সে যেরূপ ইচছা বিক্রয় করুক, যেরূপ ইচ্ছা মজুত করুক। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] মজুতদারী ইসলামের দৃষ্টিতে একটি সামাজিক অপরাধ, চড়া মূল্যে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাল মজুদ করে রাখার নাম ইহতিকার। ইহতিকার নিষিদ্ধ ও হারাম। হাদীসের দৃষ্টিতে ইহতিকারকারী অপরাধী ও অভিশপ্ত। মূল্য বৃদ্ধির অপেক্ষায় চল্লিশ দিন পর্যন্ত মাল মজুত রাখলে, সাধারণ্যে সেই মালের তীব্র প্রয়োজন থাকলে ইহতিকার নিষিদ্ধ হবে। রেওয়ায়তে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইহতিকার করবে সে ব্যক্তি হতে আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কমুক্ত, সেও আল্লাহ হতে সম্পর্ক মুক্ত (অর্থাৎ সে আল্লাহর বান্দা নয়) এবং তার কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না। হালুয়া, মধু, তৈল, ব্যঞ্জন ইত্যাদিতে ইহতিকার নিষিদ্ধ নয়, ইহতিকার নিষিদ্ধ খাদ্যদ্রব্য। সম্পদশালী শহরে যাতে মজুতদারীতে কোন ক্ষতি হয় না এমন ইহতিকার নিষিদ্ধ নয়। -আওজাযুল মাসালিক
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩২২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বাজারে ইহতিকার বা মজুতদারি নিষেধ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে দেখা যায়, যাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আছে, তারা যেন বাজারে আসা আল্লাহ প্রদত্ত খাদ্যশস্য কিনে মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে জমিয়ে না রাখে। এখানে মূল সমস্যা হলো প্রয়োজনীয় পণ্য আটকে রেখে মানুষের ক্ষতি করা। তবে যে ব্যক্তি নিজের কষ্টে, শীত-গ্রীষ্মে পণ্য বহন করে বাজারে আনে, তাকে উমার (রাঃ) আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন। সে নিজের পরিশ্রমে সরবরাহ করেছে, তাই সে ইচ্ছা করলে বিক্রি করতে পারে বা রাখতে পারে। হাদিসের শিক্ষা হলো, বাজারে ন্যায্যতা, মানুষের প্রয়োজন এবং ব্যবসায় সততা রক্ষা করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য মজুত করে মানুষের কষ্ট বাড়ানো নিন্দনীয়।
- অতিরিক্ত পুঁজি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- নিজ পরিশ্রমে পণ্য এনে বাজারে সরবরাহ করা আলাদা বিষয়।
- ব্যবসায় মানুষের প্রয়োজন ও ন্যায্যতার দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
