৩১/১৯. অধ্যায়ঃ
ঈনা [১] এবং উহার সদৃশ [২] অন্যান্য বেচাকেনা এবং খাদ্যদ্রব্যকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করা
[১] ‘ঈনা কোন বস্তু ধারে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রয় করে পরে উহাকে কম মূল্যে নগদ ক্রয় করাকে ‘ঈনা বলা হয়।[২] যেসব বস্তু বিক্রেতার অধিকারে নেই সেইসব বস্তু বিক্রয় করে লাভের সন্ধান করা। প্রশাসকগণ নাগরিকদের জন্য খাদ্যশস্য কিংবা অন্যান্য দানের জন্য তমসুক লিখে দিতেন। তাকে আরবীতে صك বলা হয়, صكوك এর বহুবচন। সেই সময় খাদ্যশস্য বিতরণ করা হত জার নামক স্থান হতে। সেইখানে ছিল খাদ্যভাণ্ডার। জার মদীনা শরীফ হতে একদিন এক রাত্রির দূরত্বে অবস্থিত। স্থানটি সাগরপাড়ে অবস্থিত।
খাদ্যদ্রব্য হস্তগত করার আগে বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩০৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩০৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلَا يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে থাকে সে তাকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করবে না। (সহীহ, মুসলিম ১৫২৬)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাতেও একই মূল শিক্ষা এসেছে: খাদ্যদ্রব্য কেনার পর তা কব্জা করার আগে বিক্রয় করা যাবে না। আরবি বর্ণনায় ‘ইয়াকবিদাহু’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো বাস্তবে দখলে নেওয়া। ফলে শুধু চুক্তি হয়ে গেছে—এটা যথেষ্ট নয়; মাল ক্রেতার নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে। এই বিধান ক্রয়-বিক্রয়ে অনিশ্চয়তা কমায়। কেউ যদি মাল না পেয়েই বিক্রি করে, পরে মাল না পাওয়া, কম পাওয়া বা দোষ থাকা নিয়ে বিরোধ হতে পারে। হাদিসটি ব্যবসায়ীকে ধীর, সৎ ও দায়িত্বশীল হতে শেখায়। খাদ্যদ্রব্যের মতো দরকারি জিনিসে এই সতর্কতা বাজারের ন্যায্যতাও রক্ষা করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেনা খাদ্যদ্রব্য নিজের দখলে আনার আগে বিক্রয় করা যাবে না।
- চুক্তির পাশাপাশি বাস্তব হস্তগত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- অদেখা বা অদখল মাল বিক্রি করলে বিরোধের আশঙ্কা বাড়ে।
- ব্যবসায় ধৈর্য ও স্বচ্ছতা রাখা দরকার।
