২৯/১৬. অধ্যায়ঃ
পীড়িত ব্যক্তির তালাক
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মীরাস: ঋতু না এলে ফয়সালার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৮১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৮১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ قَالَ كَانَتْ عِنْدَ جَدِّي حَبَّانَ امْرَأَتَانِ هَاشِمِيَّةٌ وَأَنْصَارِيَّةٌ فَطَلَّقَ الْأَنْصَارِيَّةَ وَهِيَ تُرْضِعُ فَمَرَّتْ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ هَلَكَ عَنْهَا وَلَمْ تَحِضْ فَقَالَتْ أَنَا أَرِثُهُ لَمْ أَحِضْ فَاخْتَصَمَتَا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَضَى لَهَا بِالْمِيرَاثِ فَلَامَتْ الْهَاشِمِيَّةُ عُثْمَانَ فَقَالَ هَذَا عَمَلُ ابْنِ عَمِّكِ هُوَ أَشَارَ عَلَيْنَا بِهَذَا يَعْنِي عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ.
মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (র) হতে বর্ণিতঃ
আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাচ্ছিল। এইরূপ এক বৎসর অতিবাহিত হলে পর হাব্বান ইন্তেকাল করেন। তার স্ত্রী আর ঋতুমতী হয়নি। স্ত্রী দাবি করল যে, আমি তার মীরাস (সম্পদের অংশ) পাব। আমার মাসিক ঋতু আসেনি। বিবাদ নিয়ে উভয় পত্নী উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর নিকট উপস্থিত হল। উসমান (রা) আনসারী পত্নীনর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। এতে হাশিমীয় পত্নী উসমান (রা)-কে দোষারোপ [১] করলেন। তিনি (উসমান রা)বললেন : এটা তোমার চাচাতো ভাই এর ফয়সালা। তিনি আমাদেরকে এ পরামর্শ দিয়েছেন। চাচাতো ভাই হলেন ‘আলী ইবনু আবী তালিব (রা)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] হাশিমীয় স্ত্রী বললেন, আনসারী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পর কিভাবে তাকে মীরাস দেয়া হল? উত্তরে উসমান ইবনু আফফান (রা) বললেন ঃ আমি এই বিষয়ে আলিমদের সাথে পরামর্শ করেছি। বিশেষভাবে তোমার চাচাতো ভাই আলী ইবনু আবূ তালিবের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মীরাস। এখানে হাব্বান নামের এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী ছিলেন। তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দেন, আর সেই স্ত্রী তখন সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছিলেন। এক বছর পার হওয়ার পর হাব্বান ইন্তেকাল করেন, কিন্তু ওই স্ত্রীর মাসিক ঋতু আসেনি। তাই তিনি দাবি করেন, যেহেতু তার ঋতু আসেনি, তিনি স্বামীর সম্পদের অংশ পাবেন। বিষয়টি উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর কাছে গেলে তিনি আনসারী স্ত্রীর পক্ষে মীরাসের ফয়সালা দেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তালাক, ইদ্দত, ঋতু এবং মীরাসের সম্পর্ক খুব সূক্ষ্ম। হাদিসটি আমাদের শেখায়, পারিবারিক বিরোধে আবেগ নয়, জ্ঞানী সাহাবীদের ফয়সালা ও পরামর্শের গুরুত্ব বেশি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকের পর ইদ্দতের অবস্থা মীরাসের হকের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
- পারিবারিক বিরোধে জ্ঞানী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কাছে ফয়সালা চাওয়া উচিত।
- ঋতু না আসার মতো বিশেষ অবস্থায় তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
- সাহাবীরা জটিল বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে ফয়সালা করতেন।
