২৯/১০. অধ্যায়ঃ
আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কিত
বারীরা রা.-এর ঘটনা: আযাদী, ইখতিয়ার ও সদকা-হাদিয়ার বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৬৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৬৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ: كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلَاثُ سُنَنٍ فَكَانَتْ إِحْدَى السُّنَنِ الثَّلَاثِ أَنَّهَا أُعْتِقَتْ فَخُيِّرَتْ فِي زَوْجِهَا وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَدَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْبُرْمَةُ تَفُورُ بِلَحْمٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَأُدْمٌ مِنْ أُدْمِ الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَمْ أَرَ بُرْمَةً فِيهَا لَحْمٌ فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ وَلَكِنْ ذَلِكَ لَحْمٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ وَأَنْتَ لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ.
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (র) হতে বর্ণিতঃ
‘আয়িশা উম্মুল মু’মিনীন (রা) বলেছেন : বারীরা (রা) সম্পর্কে তিনটি আহকাম জারি করা হয়েছিল। তিনটির সুন্নত বা আহকামের একটি ছিল :তাকে আযাদ করা হয় এবং তাকে আযাদীর পর স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়। (দ্বিতীয় সুন্নত এই) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কর্তা আযাদ করবে সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। (তৃতীয় সুন্নত এই) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা (রা)-এর গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হচ্ছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে রুটি এবং গৃহে মওজুদ ব্যঞ্জন উপস্থিত করা হল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি কি ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হতে দেখিনি? (তবে আমার নিকট গোশত পেশ না করার কারণ কি?) তারা বললেন : হ্যাঁ হে রসূলুল্লাহ! তবে উহা ছিল এমন গোশত যা বরীরাকে সদকা স্বরূপ দেওয়া হয়েছিল। আপনি তো সদকার বস্তু আহার করেন না। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : উহা বারীরার জন্য ছিল সদকা কিন্তু (বারীরা মালিক হওয়ার পর) উহা আমাদের জন্য হচ্ছে হাদিয়া। (বুখারী ৫২৭৯, মুসলিম ১৫০৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা) বারীরা (রা)-এর ঘটনায় তিনটি সুন্নত বা বিধানের কথা বলেছেন। প্রথমত, বারীরা (রা) আযাদ হওয়ার পর তাকে স্বামীর সঙ্গে থাকা বা না থাকার বিষয়ে ইখতিয়ার দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কর্তা আযাদ করবে, ওয়ালা বা আযাদির সম্পর্কিত উত্তরাধিকার তার জন্য। তৃতীয়ত, বারীরা (রা)-কে সদকা হিসেবে দেওয়া গোশত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাদিয়া হিসেবে গণ্য হয়, কারণ বারীরা তার মালিক হয়েছিলেন এবং পরে তা উপহার হিসেবে পেশ করা হয়। এই হাদিসে আযাদী, দাম্পত্য পছন্দ, ওয়ালা এবং সদকা-হাদিয়ার সূক্ষ্ম পার্থক্য সহজভাবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযাদ হওয়ার পর বারীরা (রা)-কে স্বামীর বিষয়ে পছন্দের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- যে ব্যক্তি আযাদ করে, ওয়ালা তার সঙ্গে যুক্ত থাকে—এ কথা হাদিসে এসেছে।
- কোন বস্তু একজনের জন্য সদকা হলেও মালিকানা বদলের পর অন্যের জন্য হাদিয়া হতে পারে।
- ইসলামী বিধানে মালিকানা ও দানের ধরন আলাদা গুরুত্ব রাখে।
