২৯/৯. অধ্যায়ঃ
ক্রীতদাসের যিহার
ক্রীতদাসের যিহার: আযাদ ব্যক্তির মতো দায়িত্ব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৬২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৬২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ ظِهَارِ الْعَبْدِ فَقَالَ نَحْوُ ظِهَارِ الْحُرِّ قَالَ مَالِك يُرِيدُ أَنَّهُ يَقَعُ عَلَيْهِ كَمَا يَقَعُ عَلَى الْحُرِّ قَالَ مَالِك وَظِهَارُ الْعَبْدِ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَصِيَامُ الْعَبْدِ فِي الظِّهَارِ شَهْرَانِ.قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَتَظَاهَرُ مِنْ امْرَأَتِهِ إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ عَلَيْهِ إِيلَاءٌ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ ذَهَبَ يَصُومُ صِيَامَ كَفَّارَةِ الْمُتَظَاهِرِ دَخَلَ عَلَيْهِ طَلَاقُ الْإِيلَاءِ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صِيَامِهِ
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ইবনু শিহাব (র)-কে দাসের যিহার সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বললেন : ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে যিহারের দ্বারা আযাদ ব্যক্তির উপর যা বর্তাবে ক্রীতদাসের উপরও তাই বর্তাবে। মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসের যিহার তার উপর ওয়াজিব হবে। যিহারের ব্যাপারে ক্রীতদাস দুই মাস সিয়াম পালন করবে। যে ক্রীতদাস নিজের স্ত্রীর সাথে যিহার করেছে, সে উহার উপর ‘ঈলা’ ঢুকাতে পারবে না, কারণ সে যিহারের কাফ্ফারা রোযা পালন করলে তার রোযা হতে অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর উপর ‘ঈলা’-এর তালাক প্রযোজ্য হবে (কারণ, তার মতে ক্রীতদাসের ঈলার সময় দুই মাস)।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ক্রীতদাসের যিহার সম্পর্কে ইবনু শিহাব (র)-এর বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো। ইমাম মালিক (র) ব্যাখ্যা করেন, অর্থাৎ আযাদ ব্যক্তির উপর যিহারের যে বিধান আসে, ক্রীতদাসের উপরও তা আসে। এই বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, ক্রীতদাসের যিহার তার উপর ওয়াজিব হবে এবং যিহারের কাফফারায় সে দুই মাস সিয়াম পালন করবে। এখানে ‘ঈলা’ সম্পর্কেও একটি সীমা উল্লেখ আছে—ক্রীতদাসের যিহারের সঙ্গে ঈলার বিষয় ঢুকবে না, কারণ সময়ের সংঘাত তৈরি হয়। হাদিসটি যিহারের বিধান, কাফফারা, সিয়াম এবং দাম্পত্য অধিকারের বিষয়ে খুব নির্দিষ্ট শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্রীতদাসের যিহারও শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।
- যিহারের কাফফারায় দুই মাস সিয়ামের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- যিহার ও ঈলার বিধান একসঙ্গে মেশানো যাবে না—হাদিসে তার কারণও বলা হয়েছে।
- শরিয়তের বিধান ব্যক্তির অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলেও দায়িত্বকে হালকা করে দেখা যায় না।
