২৮/১১. অধ্যায়ঃ
বিভিন্ন অবৈধ বিবাহ
নিকাহ শিগার কী এবং কেন তা নিষিদ্ধ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১০৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১০৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الشِّغَارِ وَالشِّغَارُ أَنْ يُزَوِّجَ الرَّجُلُ ابْنَتَهُ عَلَى أَنْ يُزَوِّجَهُ الْآخَرُ ابْنَتَهُ لَيْسَ بَيْنَهُمَا صَدَاقٌ.
আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রা) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকাহ শিগারকে নিষিদ্ধ করেছেন। শিগার হচ্ছে : কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে এই শর্তে অন্যের নিকট বিবাহ দিচ্ছে যে, কন্যার জামাতা ব্যক্তিটি তার আপন কন্যাকে ঐ ব্যক্তির নিকট (যার কন্যাকে সে নিজে বিবাহ করেছে তার নিকট অর্থাৎ শ্বশুরের নিকট) বিবাহ দিবে। আর এতদুভয়ের মধ্যে কোন মহরও ধার্য করা হয়নি। (বুখারী ৫১১২, মুসলিম ১৪১৫)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকাহ শিগার নিষিদ্ধ করেছেন। বর্ণনায় শিগারের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। তা হলো, একজন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্যের সঙ্গে এই শর্তে বিবাহ দেয় যে, অন্য ব্যক্তিও তার কন্যাকে এই ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ দেবে; অথচ দুজন নারীর জন্য কোনো মহর ধার্য করা হয় না। এখানে মূল বিষয় হলো ‘নিকাহ শিগার’, ‘বদল বিবাহ’ এবং ‘মহর ছাড়া বিবাহের শর্ত’। হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, নারীর বিবাহকে বিনিময়ের মতো করে দেখা এবং মহর বাদ দেওয়া এই নিষিদ্ধ রূপের অংশ। ইসলামে বিবাহে মহরের গুরুত্ব আছে, আর এই বর্ণনায় মহরহীন শর্তভিত্তিক বিবাহকে সরাসরি নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। তাই এই হাদিস শিগার বিবাহ থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিকাহ শিগার বা বদল বিবাহ নিষিদ্ধ।
- মেয়েকে শর্তের বিনিময়ে বিবাহ দেওয়া শরয়ি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
- বিবাহে মহরকে বাদ দিয়ে নারীর অধিকার কমিয়ে দেওয়া যাবে না।
- বিবাহকে পারস্পরিক বিনিময়ের বস্তু বানানো থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
