২৬/২. অধ্যায়ঃ
আকীকার পদ্ধতি
আকীকার পশু, গোশত ও দানের সহজ বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৬৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৬৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ أَبَاهُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَعُقُّ عَنْ بَنِيهِ الذُّكُورِ وَالْإِنَاثِ بِشَاةٍ شَاةٍ ১৮৪৬-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْعَقِيقَةِ أَنَّ مَنْ عَقَّ فَإِنَّمَا يَعُقُّ عَنْ وَلَدِهِ بِشَاةٍ شَاةٍ الذُّكُورِ وَالْإِنَاثِ وَلَيْسَتْ الْعَقِيقَةُ بِوَاجِبَةٍ وَلَكِنَّهَا يُسْتَحَبُّ الْعَمَلُ بِهَا وَهِيَ مِنْ الْأَمْرِ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ النَّاسُ عِنْدَنَا فَمَنْ عَقَّ عَنْ وَلَدِهِ فَإِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ النُّسُكِ وَالضَّحَايَا لَا يَجُوزُ فِيهَا عَوْرَاءُ وَلَا عَجْفَاءُ وَلَا مَكْسُورَةٌ وَلَا مَرِيضَةٌ وَلَا يُبَاعُ مِنْ لَحْمِهَا شَيْءٌ وَلَا جِلْدُهَا وَيُكْسَرُ عِظَامُهَا وَيَأْكُلُ أَهْلُهَا مِنْ لَحْمِهَا وَيَتَصَدَّقُونَ مِنْهَا وَلَا يُمَسُّ الصَّبِيُّ بِشَيْءٍ مِنْ دَمِهَا.
উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (র) হতে বর্ণিতঃ
ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রত্যেক সন্তানের জন্য একটি বকরী আকীকা করতেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : আকীকার বিষয়ে আমাদের নিকট হুকুম হল, ছেলে হোক বা মেয়ে হোক প্রত্যেকের জন্য একটি বকরী আকীকা করা হবে। আকীকা করা ওয়াজিব নয়, মুস্তাহাব। তবে আকীকার বকরী কুরবানীর বকরীর অনুরূপ হতে হবে। চোখ কানা, অতিশয় বৃদ্ধ, শিং ভাঙ্গা এবং রোগা হলে চলবে না। আকীকার গোশ্ত এবং চামড়া বিক্রয় করা জায়েয নয়। এর হাড়গুলো ভেঙ্গে দেয়া উচিত। [২]আকীকার গোশ্ত নিজে খাবে এবং দরিদ্রদেরকেও খেতে দিবে। আকীকাকৃত বকরীর রক্ত বাচ্চাকে ছোঁয়াবে না। [৩]
[১] তিরমিযী শরীফে আছে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলের পক্ষে দুটি এবং মেয়ের পক্ষে একটি আকীকা করতে বলেছেন।[২] জাহেলী যুগে হাড় ভাঙ্গা অশুভ বলে মনে করা হত। তাই এখানে এ কথার উল্লেখ করা হয়েছে।[৩] এটাও একটি জাহেলী রসম ছিল।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আকীকার কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। উরওয়া ইবনুয যুবাইর তাঁর ছেলে ও মেয়েদের জন্য একটি করে বকরী আকীকা করতেন। এরপর ইমাম মালিক (র) বলেন, তাঁদের কাছে প্রচলিত নিয়ম হলো ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রত্যেক সন্তানের জন্য একটি বকরী আকীকা করা। তিনি আরও বলেন, আকীকা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব। আকীকার পশু কুরবানীর পশুর মতো ভালো হতে হবে; কানা, খুব বৃদ্ধ, শিং ভাঙা বা রোগা হলে চলবে না। গোশত ও চামড়া বিক্রি করা যাবে না। পরিবার গোশত খাবে এবং দরিদ্রদেরও দেবে। শিশুর গায়ে আকীকার রক্ত লাগানো হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য একটি করে বকরী আকীকার কথা এসেছে।
- ইমাম মালিক (র)-এর ভাষায় আকীকা ওয়াজিব নয়, মুস্তাহাব।
- আকীকার পশু ভালো ও ত্রুটিমুক্ত হওয়া উচিত।
- গোশত নিজে খাওয়া এবং দরিদ্রদের খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে।
