৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴿إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴾.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
আলী রাঃ-কে ওসিয়ত প্রসঙ্গে আয়িশা রাঃ-এর সরাসরি বক্তব্য
সহিহ বুখারী : ৪৪৫৯
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৫৯
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْصَى إِلَى عَلِيٍّ فَقَالَتْ مَنْ قَالَهُ لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَإِنِّيْ لَمُسْنِدَتُهُ إِلَى صَدْرِيْ فَدَعَا بِالطَّسْتِ فَانْخَنَثَ فَمَاتَ فَمَا شَعَرْتُ فَكَيْفَ أَوْصَى إِلَى عَلِيٍّ.
আসওয়াদ (ইবনু ইয়াযীদ) (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উল্লেখ করা হলো যে, নবী (ﷺ) ‘আলি (রাঃ)-কে ওসিয়ত করে গেছেন। তখন তিনি বললেন, এ কথা কে বলেছে? আমার বুকের সঙ্গে হেলান দেয়া অবস্থায় আমি নবী (ﷺ)-কে দেখেছি। তিনি একটি চিলিমচি চাইলেন, তাতে থুথু ফেললেন এবং ইন্তেকাল করলেন। অতএব আমার বোধগম্য নয় তিনি কীভাবে ‘আলি (রাঃ)-কে ওসিয়ত করলেন।
[২৭৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০২,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৫)
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৪৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ওসিয়ত বিষয়ে আয়িশা (রাঃ)-এর সাক্ষ্য। তাঁর কাছে বলা হলো যে, নবী (صلى الله عليه وسلم) আলী (রাঃ)-কে ওসিয়ত করে গেছেন। তখন আয়িশা (রাঃ) প্রশ্ন করেন, এ কথা কে বলেছে? তিনি বলেন, আমি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দেখেছি, তিনি আমার বুকের সঙ্গে হেলান দেওয়া ছিলেন। তিনি একটি চিলিমচি চাইলেন, তাতে থুথু ফেললেন এবং ইন্তিকাল করলেন। এরপর আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারি না, তিনি কীভাবে আলী (রাঃ)-কে ওসিয়ত করলেন। হাদিসটি কোনো তর্ক বাড়ানোর জন্য নয়; বরং একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবিয়ার বক্তব্য হিসেবে এসেছে। এখানে আয়িশা (রাঃ) নিজের দেখা ঘটনার ভিত্তিতে একটি দাবির জবাব দিয়েছেন। তাই ব্যাখ্যায়ও সরাসরি পাঠ্যের সীমা রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় দাবি যাচাইয়ে প্রত্যক্ষ বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ।
- আয়িশা রাঃ নিজের দেখা ঘটনার ভিত্তিতে জবাব দিয়েছেন।
- শোনা কথার চেয়ে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য বেশি গুরুত্ব পায়।
- হাদিসের বক্তব্যের বাইরে বাড়তি দাবি করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
