৬৪/২. অধ্যায়ঃ

বদর যুদ্ধে নিহতদের ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩৯৫০

أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا شُرَيْحُ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَمْرُوْ بْنُ مَيْمُوْنٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُوْدٍ حَدَّثَ عَنْ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ أَنَّهُ قَالَ كَانَ صَدِيْقًا لِأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَكَانَ أُمَيَّةُ إِذَا مَرَّ بِالْمَدِيْنَةِ نَزَلَ عَلَى سَعْدٍ وَكَانَ سَعْدٌ إِذَا مَرَّ بِمَكَّةَ نَزَلَ عَلَى أُمَيَّةَ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِيْنَةَ انْطَلَقَ سَعْدٌ مُعْتَمِرًا فَنَزَلَ عَلَى أُمَيَّةَ بِمَكَّةَ فَقَالَ لِأُمَيَّةَ انْظُرْ لِيْ سَاعَةَ خَلْوَةٍ لَعَلِّيْ أَنْ أَطُوْفَ بِالْبَيْتِ فَخَرَجَ بِهِ قَرِيْبًا مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ فَلَقِيَهُمَا أَبُوْ جَهْلٍ فَقَالَ يَا أَبَا صَفْوَانَ مَنْ هَذَا مَعَكَ فَقَالَ هَذَا سَعْدٌ فَقَالَ لَهُ أَبُوْ جَهْلٍ أَلَا أَرَاكَ تَطُوْفُ بِمَكَّةَ آمِنًا وَقَدْ أَوَيْتُمْ الصُّبَاةَ وَزَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ تَنْصُرُوْنَهُمْ وَتُعِيْنُوْنَهُمْ أَمَا وَاللهِ لَوْلَا أَنَّكَ مَعَ أَبِيْ صَفْوَانَ مَا رَجَعْتَ إِلَى أَهْلِكَ سَالِمًا فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ وَرَفَعَ صَوْتَهُ عَلَيْهِ أَمَا وَاللهِ لَئِنْ مَنَعْتَنِيْ هَذَا َلأَمْنَعَنَّكَ مَا هُوَ أَشَدُّ عَلَيْكَ مِنْهُ طَرِيْقَكَ عَلَى الْمَدِيْنَةِ فَقَالَ لَهُ أُمَيَّةُ لَا تَرْفَعْ صَوْتَكَ يَا سَعْدُ عَلَى أَبِي الْحَكَمِ سَيِّدِ أَهْلِ الْوَادِيْ فَقَالَ سَعْدٌ دَعْنَا عَنْكَ يَا أُمَيَّةُ فَوَاللهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ إِنَّهُمْ قَاتِلُوْكَ قَالَ بِمَكَّةَ قَالَ لَا أَدْرِيْ فَفَزِعَ لِذَلِكَ أُمَيَّةُ فَزَعًا شَدِيْدًا فَلَمَّا رَجَعَ أُمَيَّةُ إِلَى أَهْلِهِ قَالَ يَا أُمَّ صَفْوَانَ أَلَمْ تَرَيْ مَا قَالَ لِيْ سَعْدٌ قَالَتْ وَمَا قَالَ لَكَ قَالَ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُمْ قَاتِلِيَّ فَقُلْتُ لَهُ بِمَكَّةَ قَالَ لَا أَدْرِيْ فَقَالَ أُمَيَّةُ وَاللهِ لَا أَخْرُجُ مِنْ مَكَّةَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ اسْتَنْفَرَ أَبُوْ جَهْلٍ النَّاسَ قَالَ أَدْرِكُوْا عِيْرَكُمْ فَكَرِهَ أُمَيَّةُ أَنْ يَخْرُجَ فَأَتَاهُ أَبُوْ جَهْلٍ فَقَالَ يَا أَبَا صَفْوَانَ إِنَّكَ مَتَى مَا يَرَاكَ النَّاسُ قَدْ تَخَلَّفْتَ وَأَنْتَ سَيِّدُ أَهْلِ الْوَادِيْ تَخَلَّفُوْا مَعَكَ فَلَمْ يَزَلْ بِهِ أَبُوْ جَهْلٍ حَتَّى قَالَ أَمَّا إِذْ غَلَبْتَنِيْ فَوَاللهِ لَأَشْتَرِيَنَّ أَجْوَدَ بَعِيْرٍ بِمَكَّةَ ثُمَّ قَالَ أُمَيَّةُ يَا أُمَّ صَفْوَانَ جَهِّزِيْنِيْ فَقَالَتْ لَهُ يَا أَبَا صَفْوَانَ وَقَدْ نَسِيْتَ مَا قَالَ لَكَ أَخُوْكَ الْيَثْرِبِيُّ قَالَ لَا مَا أُرِيْدُ أَنْ أَجُوْزَ مَعَهُمْ إِلَّا قَرِيْبًا فَلَمَّا خَرَجَ أُمَيَّةُ أَخَذَ لَا يَنْزِلُ مَنْزِلًا إِلَّا عَقَلَ بَعِيْرَهُ فَلَمْ يَزَلْ بِذَلِكَ حَتَّى قَتَلَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِبَدْرٍ

সা’দ ইব্‌নু মু‘আয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তাঁর ও উমাইয়া ইবন খালফের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। উমাইয়া মদিনায় আসলে সা’দ ইবন মু’আয (রাঃ)-এর মেহমান হতেন এবং সা’দ (রাঃ) মক্কায় গেলে উমাইয়ার আতিথ্য গ্রহণ করতেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদিনায় হিজরাত করার পর একবার সা’দ (রাঃ) উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কা গেলেন এবং উমাইয়ার বাড়িতে অবস্থান করলেন। তিনি উমাইয়াকে বললেন, “আমাকে এমন একটি নিরিবিলি সময়ের কথা বলো যখন আমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারব।” তাই দুপুরের কাছাকাছি সময়ে একদিন উমাইয়া তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বের হল, তখন তাদের সঙ্গে আবু জাহলের দেখা হল। তখন সে (উমাইয়াকে লক্ষ্য করে) বলল, “হে আবু সাফওয়ান! তোমার সঙ্গে ইনি কে?”সে বলল, “ইনি সা’দ।” তখন আবু জাহল তাঁকে (সা’দ ইবন মু’আযকে) বলল, “আমি তোমাকে নিরাপদে মক্কায় তাওয়াফ করতে দেখছি, অথচ তোমরা ধর্মত্যাগীদের আশ্রয় দিয়েছ এবং তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছ। আল্লাহর কসম, তুমি আবু সাফওয়ানের (উমাইয়ার) সঙ্গে না থাকলে তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে নিরাপদে ফিরে যেতে পারতে না।”সা’দ (রাঃ) এর চেয়েও উচ্চস্বরে বললেন, “আল্লাহর কসম, তুমি এতে যদি আমাকে বাধা দাও, তাহলে আমিও এমন একটি বিষয়ে তোমাকে বাধা দেব, যা তোমার জন্য এর চেয়েও কঠিন হবে। মদিনার পাশ দিয়ে তোমার যাতায়াতের রাস্তা (বন্ধ করে দেব)।” তখন উমাইয়া তাঁকে বলল, “হে সা’দ! এ উপত্যকার সর্দার আবুল হাকামের সঙ্গে এরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না।”তখন সা’দ (রাঃ) বললেন, “হে উমাইয়া! তুমি চুপ কর। আল্লাহর কসম, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তারা তোমার হত্যাকারী।” উমাইয়া জিজ্ঞেস করল, “মক্কার বুকে?” সা’দ (রাঃ) বললেন, “তা জানি না।” উমাইয়া এতে অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল।এরপর উমাইয়া বাড়ী গিয়ে তার (স্ত্রীকে) বলল, “হে উম্মু সাফওয়ান! সা’দ আমার ব্যাপারে কী বলেছে জান?” সে বলল, “সা’দ তোমাকে কী বলেছে?” উমাইয়া বলল, “সে বলেছে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাদেরকে জানিয়েছেন যে, তারা আমার হত্যাকারী।” তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “তা কি মক্কায়?” সে বলল, “তা জানি না।” অতঃপর উমাইয়া বলল, “আল্লাহর কসম, আমি কখনো মক্কা হতে বের হব না।”কিন্তু বদর যুদ্ধের দিন আগত হলে আবু জাহল সকল জনসাধারণকে সদলবলে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলল, “তোমরা তোমাদের কাফেলা রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হও।” উমাইয়া বের হওয়াকে অপছন্দ করলে আবু জাহল এসে তাকে বলল, “হে আবু সাফওয়ান! তুমি এ উপত্যকার অধিবাসীদের নেতা, তাই লোকেরা যখন দেখবে তুমি পেছনে রয়ে গেছ, তখন তারাও তোমার সঙ্গে পেছনেই থেকে যাবে।”এ বলে আবু জাহল তার সঙ্গে পীড়াপীড়ি করতে থাকলে সে বলল, “তুমি যেহেতু আমাকে বাধ্য করে ফেলছ, তাই আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি এমন একটি উট ক্রয় করব যা মক্কার মধ্যে সবচেয়ে ভালো।” এরপর উমাইয়া (স্ত্রীকে) বলল, “হে উম্মু সাফওয়ান! আমার সফরের ব্যবস্থা কর।” স্ত্রী বলল, “হে আবু সাফওয়ান! তোমার মদিনাবাসী ভাই যা বলেছিলেন তা কি তুমি ভুলে গেছ?” সে বলল, “না। আমি তাদের সঙ্গে মাত্র কিছু দূর যেতে চাই।”রওয়ানা হওয়ার পর রাস্তায় যে মনজিলে উমাইয়া কিছুক্ষণ অবস্থান করেছে, সেখানেই সে তার উট বেঁধে রেখেছে। সারা রাস্তায় সে এমন করল, শেষে বদর প্রান্তরে মহান আল্লাহ তাকে হত্যা করলেন।

[৩৬৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৫৯,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৬২)

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন