২৩/৭৯. অধ্যায়ঃ

কোন বালক ইসলাম গ্রহণ করে মারা গেলে তার জন্য (জানাজার) সালাত আদায় করা যাবে কি? বালকের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেয়া যাবে কি?

وَقَالَ الْحَسَنُ وَشُرَيْحٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَقَتَادَةُ إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُهُمَا فَالْوَلَدُ مَعَ الْمُسْلِمِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَعَ أُمِّهِ مِنَ الْمُسْتَضْعَفِينَ وَلَمْ يَكُنْ مَعَ أَبِيهِ عَلَى دِينِ قَوْمِهِ وَقَالَ الْإِسْلَامُ يَعْلُو وَلَا يُعْلَىহাসান, শুরাইহ, ইবরাহীম ও কাতাদা (রহ.) বলেছেন, পিতা-মাতার কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে সন্তান মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে। ইবন ‘আব্বাস (রা.) তাঁর মায়ের সাথে ‘মুস্তায‘আফীন’ (দুর্বল ও নির্যাতিত জামা‘আত)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁকে তাঁর পিতা (আব্বাস)-এর সাথে ‘তার কওমের (মুশরিকদের) ধর্মে গণ্য করা হত না। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: ইসলাম বিজয়ী হয়, বিজিত হয় না।"

ইবনু সাইয়াদের গুনগুন আওয়াজ: দাজ্জাল প্রসঙ্গে অনুসন্ধান

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৫৫

وَقَالَ سَالِمٌ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ وَهُوَ يَخْتِلُ أَنْ يَسْمَعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ابْنُ صَيَّادٍ فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ، يَعْنِي فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا رَمْزَةٌ أَوْ زَمْرَةٌ، فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لاِبْنِ صَيَّادٍ يَا صَافِ ـ وَهْوَ اسْمُ ابْنِ صَيَّادٍ ـ هَذَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم‏.‏ فَثَارَ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ ‏"‏‏.‏ وَقَالَ شُعَيْبٌ فِي حَدِيثِهِ فَرَفَصَهُ رَمْرَمَةٌ، أَوْ زَمْزَمَةٌ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ الْكَلْبِيُّ وَعُقَيْلٌ رَمْرَمَةٌ‏.‏ وَقَالَ مَعْمَرٌ رَمْزَةٌ‏.‏

রাবী সালিম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ইবনু উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর রসূল (ﷺ) এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুরের বাগানের দিকে গমন করলেন যেখানে ইবনু সাইয়াদ ছিল। ইবনু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার পূর্বেই ইবনু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী (ﷺ) তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর হতে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ইবনু সাইয়াদের মা আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কাণ্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইবনু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবনু সাইয়াদের ডাক নাম) এই যে মুহাম্মাদ! তখন ইবনু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ সে (ইবনু সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত। শুআইব (রহঃ) তাঁর হাদীসে فَرَفَضَهُ বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, رَمْرَمَةُ অথবা زَمْزَمَةُ এবং উকাইল (রাঃ) বলেছেন, رَمْرَمَةُ আর মা’মার বলেছেন رَمْزَةُ

[১] (رَمْرَمَة، زَمْزَمَة، رَمْزَةُ، رَمْزَمَةُ ) শব্দগুলো সমার্থকবোধক। অর্থাৎ অষ্পষ্ট ও গুনগুন শব্দ।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু সাইয়াদের বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আরেকটি ঘটনা এসেছে। রাসূল صلى الله عليه وسلم এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সেই খেজুর বাগানে যান, যেখানে ইবনু সাইয়াদ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, সে নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখে ফেলার আগে তার কিছু কথা শুনে নেওয়া। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেন, আর তার ভেতর থেকে গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। তখন ইবনু সাইয়াদের মা নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখে তাকে ডেকে বলে, এই যে মুহাম্মাদ। সে লাফিয়ে ওঠে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, সে যদি তাকে ওই অবস্থায় থাকতে দিত, বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যেত। এই হাদিসে অনুসন্ধান, সতর্কতা এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের সীমা বোঝা যায়। দাজ্জাল প্রসঙ্গে নিশ্চিত কথা বলার আগে নবী صلى الله عليه وسلم নিজে পর্যবেক্ষণ করেছেন—এটাই বড় শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কোনো জটিল বিষয়ে আগে পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের গুরুত্ব দেখা যায়।
  • ইবনু সাইয়াদের অবস্থা বুঝতে নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি শুনতে চেয়েছিলেন।
  • মায়ের ডাকে অনুসন্ধান অসম্পূর্ণ থেকে যায়—এ কথা হাদিসেই এসেছে।
  • সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে সীমা মেনে কথা বলা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন