২১/১৬. অধ্যায়ঃ
শহীদ ব্যক্তির গোসল
যুদ্ধক্ষেত্রের শহীদদের দাফন: গোসল ও জানাযার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৮৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৮৬
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ الشُّهَدَاءُ فِي سَبِيلِ اللهِ لَا يُغَسَّلُونَ وَلَا يُصَلَّى عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ وَإِنَّهُمْ يُدْفَنُونَ فِي الثِّيَابِ الَّتِي قُتِلُوا فِيْهَا ১৬৮৫-قَالَ مَالِك وَتِلْكَ السُّنَّةُ فِيمَنْ قُتِلَ فِي الْمُعْتَرَكِ فَلَمْ يُدْرَكْ حَتَّى مَاتَ قَالَ وَأَمَّا مَنْ حُمِلَ مِنْهُمْ فَعَاشَ مَا شَاءَ اللهُ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ يُغَسَّلُ وَيُصَلَّى عَلَيْهِ كَمَا عُمِلَ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
আহলে ইল্ম হতে তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, তাঁরা বলতেন। আল্লাহর রাহের শহীদগণকে গোসল করান বা তাঁদের করো জানাযা পড়া ঠিক নয়। বরং যে কাপড়ে শহীদ হয়েছেন সেই কাপড়েই তাঁদেরকে দাফন করা উচিত।মালিক (র) বলেন, এটা যুদ্ধের ময়দানে নিহত শহীদগণের হুকুম। আর যুদ্ধের ময়দান হতে জীবিত আনার পর বাড়ি এসে আল্লাহর ইচ্ছায় কিছুক্ষণ বা কিছু কাল পর যাদের মৃত্যু হয় তাঁদেরকে গোসল দেওয়া হবে এবং তাঁদের জানাযাও পড়া হবে। উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর বেলায়ও এরূপ করা হয়েছিল।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় শহীদদের দাফন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। আহলে ইলমের বক্তব্য হিসেবে এসেছে, আল্লাহর পথে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শহীদদের গোসল করানো হয় না, তাঁদের জানাযাও পড়া হয় না; বরং যে কাপড়ে তাঁরা শহীদ হয়েছেন, সেই কাপড়েই দাফন করা হয়। এরপর ইমাম মালিক (র) পরিষ্কার করে বলেন, এটি সেই শহীদদের নিয়ম যারা যুদ্ধের ময়দানে নিহত হয়েছেন এবং মৃত্যুর আগে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়নি। আর যাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে জীবিত আনা হয়েছে, পরে আল্লাহর ইচ্ছায় সে মারা গেলে তাকে গোসল দেওয়া হবে এবং জানাযা পড়া হবে। উমার (রা)-এর ক্ষেত্রে এমনই করা হয়েছিল। তাই এই হাদিসে শহীদের দাফনের নিয়মটি অবস্থাভেদে বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শহীদদের দাফন নিয়ে আলাদা বিধান এসেছে।
- আহত হয়ে পরে মারা গেলে গোসল ও জানাযার বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।
- ইমাম মালিক (র) বর্ণনার মধ্যে অবস্থার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
- শরয়ি হুকুম বুঝতে ঘটনার ধরন জানা জরুরি।
