২০/৭৫. অধ্যায়ঃ
ঋতুমতী মহিলার তাওয়াফে যিয়ারত (ইফাযা)
ঋতুস্রাবের আশঙ্কা হলে তাওয়াফে যিয়ারতের সহজ বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯২১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الرِّجَالِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ كَانَتْ إِذَا حَجَّتْ وَمَعَهَا نِسَاءٌ تَخَافُ أَنْ يَحِضْنَ قَدَّمَتْهُنَّ يَوْمَ النَّحْرِ فَأَفَضْنَ فَإِنْ حِضْنَ بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ تَنْتَظِرْهُنَّ فَتَنْفِرُ بِهِنَّ وَهُنَّ حُيَّضٌ إِذَا كُنَّ قَدْ أَفَضْنَ.
আমরাহ্ বিন্ত আবদুর রহমান (র) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা) অন্য মহিলাদেরকে নিয়ে হজ্জ করতেন এবং যদি তাঁদের কারো ঋতুস্রাবের আশষ্কা দেখা দিত তবে দশ তারিখেই তাঁকে তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করে আসার জন্য পাঠিয়ে দিতেন। তাওয়াফে যিয়ারত করে নেওয়ার পর কারো ঋতুস্রাব হলে তার পাক হওয়ার আর অপেক্ষা করতেন না, গন্তব্যস্থলে রওয়ানা হয়ে পড়তেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা)-এর একটি আমল বর্ণিত হয়েছে। তিনি অন্য মহিলাদের নিয়ে হজ্জ করতেন। তাঁদের মধ্যে কারো ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি দশ তারিখেই তাকে তাওয়াফে যিয়ারত করে আসতে পাঠাতেন। মূল শিক্ষা হলো, হজ্জে নারীদের বাস্তব অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। তাওয়াফে যিয়ারত হজ্জের বড় কাজগুলোর একটি। তাই ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে তা আদায় করে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানো হত। হাদিসে আরও এসেছে, তাওয়াফে যিয়ারত করার পর কারো ঋতুস্রাব হলে আয়েশা (রা) তার পাক হওয়ার অপেক্ষা করতেন না, বরং তাকে নিয়ে রওয়ানা হতেন। তাই এই বর্ণনা তাওয়াফে যিয়ারত, ঋতুস্রাব এবং হজ্জে নারীদের সহজ বিধান বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুস্রাবের আশঙ্কা থাকলে তাওয়াফে যিয়ারত আগে করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
- তাওয়াফে যিয়ারত হয়ে গেলে পরে ঋতুস্রাব শুরু হলে সফর বিলম্ব করা জরুরি নয়—এই বর্ণনায় তা বোঝা যায়।
- হজ্জের কাজে নারীদের শারীরিক অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা দরকার।
- ইবাদতের নিয়ম বুঝে সময়মতো আমল করা হজ্জের সফরকে সহজ করে।
