২০/৭৪. অধ্যায়ঃ
ঋতুমতী স্ত্রীলোকের মক্কায় প্রবেশ করা
ঋতুমতী নারী হজ্জে কী করবেন—তাওয়াফ ও সা’য়ী স্থগিত
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯১৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯১৮
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ قَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى تَطْهُرِي ১৫৫قَالَ مَالِك فِي الْمَرْأَةِ الَّتِي تُهِلُّ بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ تَدْخُلُ مَكَّةَ مُوَافِيَةً لِلْحَجِّ وَهِيَ حَائِضٌ لَا تَسْتَطِيعُ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ إِنَّهَا إِذَا خَشِيَتْ الْفَوَاتَ أَهَلَّتْ بِالْحَجِّ وَأَهْدَتْ وَكَانَتْ مِثْلَ مَنْ قَرَنَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ وَأَجْزَأَ عَنْهَا طَوَافٌ وَاحِدٌ১৫৫১-وَالْمَرْأَةُ الْحَائِضُ إِذَا كَانَتْ قَدْ طَافَتْ بِالْبَيْتِ وَصَلَّتْ فَإِنَّهَا تَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَتَقِفُ بِعَرَفَةَ وَالْمُزْدَلِفَةِ وَتَرْمِي الْجِمَارَ غَيْرَ أَنَّهَا لَا تُفِيضُ حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضَتِهَا
আয়েশা (রা) হতে বর্ণিতঃ
ঋতুমতী অবস্থায় আমি মক্কায় এসেছিলাম। ফলে আমি তাওয়াফ ও সা’য়ী করিনি। এই কথা রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পেশ করলে তিনি বলেছেন, একজন হাজী যে সমস্ত কাজ করে তুমি তাই করে যাও। তবে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ ও সা’য়ী স্থগিত রাখ। (বুখারী ২৯৪, মুসলিম ১২১১)মালিক (র) বলেন, উমরার ইহরাম বেঁধে কোন মহিলা মক্কায় এলে আর হজ্জের সময় তার ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ার দরুন সে যদি তাওয়াফ করতে না পারে, পাক হতে হতে হজ্জের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশষ্কা হলে, সে হজ্জের ইহরাম বেঁধে নিবে এবং একটা কুরবানী করবে। কিরান হজ্জকারীর মত তাকেও একবার তাওয়াফ করলেই হবে। তাওয়াফ করে দুই রাক’আত তাওয়াফের নামায আদায় করার পর যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে হজ্জের অন্যান্য আহকাম, যথা সা’য়ী, আরাফাতে মুযদালিফায় অবস্থান এবং প্রস্তর নিক্ষেপ এই অবস্থায়ই চালিয়ে যেতে পারবে। তবে হায়য হতে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারত করতে পারবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রা) বলেন, তিনি ঋতুমতী অবস্থায় মক্কায় এসেছিলেন। তাই তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেননি এবং সাফা-মারওয়ার সা’য়ীও করেননি। তিনি বিষয়টি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পেশ করলে নবীজি বলেন, একজন হাজী যা করে তুমি তাই করো; তবে পাক না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করো না। এরপর ইমাম মালিক (র)-এর আলোচনা এসেছে। তিনি বলেন, উমরার ইহরাম নিয়ে মক্কায় এসে কোনো নারী ঋতুস্রাবের কারণে তাওয়াফ করতে না পারলে এবং হজ্জের সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা হলে সে হজ্জের ইহরাম নেবে ও কুরবানী করবে। তাওয়াফের পর ঋতুস্রাব হলে সে সা’য়ী, আরাফাত, মুযদালিফা ও রমীর আমল চালিয়ে যেতে পারে, তবে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারত করবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুমতী নারী হজ্জের অন্য কাজ করতে পারে, তবে তাওয়াফ ও সা’য়ী পাক হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখবে।
- নবীজি আয়েশা (রা)-কে হাজীদের কাজ করতে বলেছেন, তাওয়াফ ও সা’য়ী ছাড়া।
- ইমাম মালিক (র) হজ্জের সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কায় করণীয় ব্যাখ্যা করেছেন।
- তাওয়াফে যিয়ারত পাক না হওয়া পর্যন্ত করা যাবে না—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
