২০/৫৫. অধ্যায়ঃ
যার হজ্জ ছুটে গিয়েছে তার আরাফাতে অবস্থান করা
আরাফাতে অবস্থান ও ইহরাম: ফরয হজ্জ আদায়ের সময়-শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮৬৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮৬৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَدْرَكَهُ الْفَجْرُ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ وَلَمْ يَقِفْ بِعَرَفَةَ فَقَدْ فَاتَهُ الْحَجُّ وَمَنْ وَقَفَ بِعَرَفَةَ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ قَبْلَ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْحَجَّ.১৪৫৭-قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يُعْتَقُ فِي الْمَوْقِفِ بِعَرَفَةَ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يُجْزِي عَنْهُ مِنْ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَمْ يُحْرِمْ فَيُحْرِمُ بَعْدَ أَنْ يُعْتَقَ ثُمَّ يَقِفُ بِعَرَفَةَ مِنْ تِلْكَ اللَّيْلَةِ قَبْلَ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ فَإِنْ فَعَلَ ذَلِكَ أَجْزَأَ عَنْهُ وَإِنْ لَمْ يُحْرِمْ حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ كَانَ بِمَنْزِلَةِ مَنْ فَاتَهُ الْحَجُّ إِذَا لَمْ يُدْرِكْ الْوُقُوفَ بِعَرَفَةَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ وَيَكُوْنُ عَلَى الْعَبْدِ حَجَّةُ الْإِسْلَامِ يَقْضِيْهَا.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, মুযদালিফার রাত ফজর হওয়া পর্যন্তও যদি কেউ (কিছু সময়ের জন্য) আরাফাতে অবস্থান না করে থাকে তবে তার হজ্জ বিনষ্ট হবে। আর যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত ইহরাম বেঁধে (কিছু সময়) আরাফাতে অবস্থান করতে পারবে তার হজ্জ হয়ে যাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, আরাফাতে অবস্থানকালে যদি কোন ক্রীতদাস আযাদ হয়ে যায় তবে এই হজ্জ দ্বারা তার ফরয হজ্জ আদায় হবে না। কিন্তু আযাদ হওয়ার পূর্বে সে যদি ইহরাম না বেঁধে থাকে এবং আযাদ হওয়ার পর ইয়াওমুন-নাহরের ফজরের পূর্বে ইহরাম বেঁধে আরাফাতে অবস্থান করে নিতে পারে তবে তার ফরয হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। আর ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সে যদি ইহরাম না বাঁধে তবে তার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মত হবে যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাত্রের ফজর পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করে নাই, ফলে তার হজ্জ বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে। সুতরাং ঐ আযাদ ক্রীতদাসেরও পুনরায় ফরয হজ্জ আদায় করতে হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুযদালিফার রাত ফজর হওয়া পর্যন্ত কেউ যদি কিছু সময়ের জন্যও আরাফাতে অবস্থান না করে, তবে তার হজ্জ বিনষ্ট হবে। আর কেউ যদি ফজরের আগে ইহরাম বেঁধে আরাফাতে কিছু সময় অবস্থান করতে পারে, তবে তার হজ্জ হয়ে যাবে। এরপর ইমাম মালিক (র) ক্রীতদাসের ব্যাপারে একটি মাসআলা ব্যাখ্যা করেছেন। কেউ আরাফাতে অবস্থানের সময় আযাদ হলে, সেই হজ্জ তার ফরয হজ্জ হিসেবে যথেষ্ট হবে না, যদি আগেই ইহরাম বেঁধে থাকে। তবে আযাদ হওয়ার পর ফজরের আগে ইহরাম বেঁধে আরাফাতে অবস্থান করলে ফরয হজ্জ আদায় হবে। এই হাদিসে ইহরাম, আরাফাত ও সময়ের গুরুত্ব একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের আগে আরাফাতে অবস্থান না করলে হজ্জ ছুটে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- ইহরাম ও আরাফাতে অবস্থান—দুটির সময় ঠিক রাখা জরুরি।
- আযাদ হওয়ার পর ইহরাম বেঁধে সময়ের মধ্যে আরাফাতে গেলে ফরয হজ্জ আদায় হতে পারে।
- হজ্জের বিধানে ব্যক্তির অবস্থা ও সময় দুটিই গুরুত্ব পায়।
