২০/৪৬. অধ্যায়ঃ
হাদ্য়ী হাঁকিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি
হাদয়ী পশু চিহ্নিত করা: ইবনু উমার (রা.)-এর বিস্তারিত আমল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮৩৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮৩৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَهْدَى هَدْيًا مِنْ الْمَدِينَةِ قَلَّدَهُ وَأَشْعَرَهُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ يُقَلِّدُهُ قَبْلَ أَنْ يُشْعِرَهُ وَذَلِكَ فِي مَكَانٍ وَاحِدٍ وَهُوَ مُوَجَّهٌ لِلْقِبْلَةِ يُقَلِّدُهُ بِنَعْلَيْنِ وَيُشْعِرُهُ مِنْ الشِّقِّ الْأَيْسَرِ ثُمَّ يُسَاقُ مَعَهُ حَتَّى يُوقَفَ بِهِ مَعَ النَّاسِ بِعَرَفَةَ ثُمَّ يَدْفَعُ بِهِ مَعَهُمْ إِذَا دَفَعُوا فَإِذَا قَدِمَ مِنًى غَدَاةَ النَّحْرِ نَحَرَهُ قَبْلَ أَنْ يَحْلِقَ أَوْ يُقَصِّرَ وَكَانَ هُوَ يَنْحَرُ هَدْيَهُ بِيَدِهِ يَصُفُّهُنَّ قِيَامًا وَيُوَجِّهُهُنَّ إِلَى الْقِبْلَةِ ثُمَّ يَأْكُلُ وَيُطْعِمُ.
নাফি’ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) মদীনা হতে যখন কুরবানীর পশু (হাদ্য়ী) নিয়ে যেতেন তখন যুল-হুলায়ফা পৌঁছে এর গলায় চিহ্নের জন্য কিছু একটা লটকিয়ে দিতেন এবং সেখানেই উহার ইশআর (কাঁধের চামড়া যখম করে রক্ত মাখিয়ে দেওয়া) করতেন। প্রথমে ঐ পশুটির মুখ কিবলার দিকে করে এর গলায় দুটি জুতা লটকিয়ে দিতেন, পরে বাম দিকের কাঁধের চামড়া চিরে তা রক্তাক্ত করতেন এবং নিজের সঙ্গে তা হাঁকিয়ে নিয়ে চলতেন। আরাফাতে পৌঁছে সকলে যেখানে অবস্থান করতেন, তিনিও সেখানে অবস্থান করতেন। সকলেই যখন ফিরে আসত কুরবানীর পশুটিও সঙ্গে ফিরত। ইয়াওমুন নাহরের সকালে মিনায় পৌঁছে মাথা কামানো বা চুল ছাঁটার পূর্বেই কুরবানীর পশুটি নাহর করতেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) স্বীয় কুরবানীর পশুটি স্বহস্তে নাহর করতেন। কিবলামুখ করে প্রথমে কুরবানীর পশুগুলো কাতার করে দাঁড় করাতেন, পরে এগুলো নাহর করতেন এবং এই গোশত নিজেও খেতেন এবং অন্যদেরকেও খাওয়াইতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)-এর হাদয়ী পশু নিয়ে বিস্তারিত আমল এসেছে। তিনি মদীনা থেকে হাদয়ী নিয়ে যুল-হুলায়ফায় পৌঁছে পশুর গলায় চিহ্নের জন্য কিছু ঝুলিয়ে দিতেন। এরপর কিবলামুখী করে বাম কাঁধের চামড়া চিরে রক্তাক্ত করতেন, যাকে ইশআর বলা হয়েছে। পশুটি তিনি নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতেন। আরাফাতে মানুষের সঙ্গে অবস্থান করতেন এবং সবাই ফিরে এলে পশুটিও সঙ্গে ফিরত। ইয়াওমুন নাহরের সকালে মিনায় পৌঁছে মাথা কামানো বা চুল ছাঁটার আগে তিনি কুরবানীর পশু নাহর করতেন। তিনি নিজ হাতে পশু নাহর করতেন, কিবলামুখী করে দাঁড় করাতেন, তারপর গোশত নিজে খেতেন এবং অন্যদেরও খাওয়াতেন। এই হাদিস হাদয়ী কুরবানী, চিহ্নিতকরণ, নাহর এবং খাওয়ানোর একটি ধারাবাহিক চিত্র দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবনু উমার (রা.) হাদয়ী পশুকে চিহ্নিত করতেন এবং ইশআর করতেন।
- হাদয়ী পশু আরাফাতে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার আমল বর্ণিত হয়েছে।
- মিনায় মাথা কামানো বা চুল ছাঁটার আগে নাহর করার কথা এসেছে।
- কুরবানীর গোশত নিজে খাওয়া ও অন্যকে খাওয়ানোর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
