২০/৪৩. অধ্যায়ঃ
আরাফাত দিবসে রোযা
আরাফার রোজা: আয়েশা (রা.)-এর আমল ও ধৈর্যের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮২৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮২৭
- و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ كَانَتْ تَصُومُ يَوْمَ عَرَفَةَ قَالَ الْقَاسِمُ وَلَقَدْ رَأَيْتُهَا عَشِيَّةَ عَرَفَةَ يَدْفَعُ الْإِمَامُ ثُمَّ تَقِفُ حَتَّى يَبْيَضَّ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ مِنْ الْأَرْضِ ثُمَّ تَدْعُو بِشَرَابٍ فَتُفْطِرُ.
কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (র) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা) আরাফাত দিবসে রোযা রাখতেন। কাসিম ইবনু মুহাম্মদ বলেন, আমি তাঁকে (আয়েশা রা.)-কে আরাফাত দিবসে সন্ধ্যায় দেখেছি, ইমামের (আমীরুল মু’মিনীন) প্রত্যাবর্তনের পরও তিনি (আয়েশা রা) আপেক্ষা করলেন এবং পরে ভিড় কমে পথ পরিষ্কার হলে পানি এনে ইফতার করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.)-এর আরাফাত দিবসে রোজা রাখার আমল এসেছে। কাসিম ইবনু মুহাম্মদ বলেন, তিনি সন্ধ্যায় তাঁকে দেখেছেন। ইমাম বা আমীরুল মু’মিনীন ফিরে যাওয়ার পরও আয়েশা (রা.) অপেক্ষা করেন। ভিড় কমে রাস্তা পরিষ্কার হলে তিনি পানীয় আনতে বলেন এবং তখন ইফতার করেন। এখানে আরাফার রোজা, ইফতারের সময় ধৈর্য এবং ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়া না করার শিক্ষা দেখা যায়। তবে এই বর্ণনাটি আয়েশা (রা.)-এর আমল হিসেবে এসেছে; একই বিষয়ে নবীজির আরাফাতে দুধ পান করার বর্ণনাও আছে। তাই পাঠককে হাদিসের নিজ নিজ অবস্থা আলাদা করে বুঝতে হবে। এই হাদিস আমাদের দেখায়, ইবাদতে আন্তরিকতা থাকলেও পরিস্থিতির প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। এইভাবে বর্ণনাটি ব্যক্তিগত আমল ও পরিস্থিতির প্রতি খেয়াল—দুই দিকই দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়েশা (রা.) আরাফার দিনে রোজা রাখতেন—এটি তাঁর আমল হিসেবে বর্ণিত।
- ইফতারের সময় ভিড় কমা পর্যন্ত অপেক্ষার ঘটনা ধৈর্যের শিক্ষা দেয়।
- ইবাদতের সঙ্গে মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখা যায়।
- একই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থা থাকলে বর্ণনাগুলো আলাদা করে বোঝা দরকার।
