২০/৪২. অধ্যায়ঃ

সা’য়ী সম্পর্কে বিবিধ হাদীস

সাফা-মারওয়া সা’য়ী: আয়াতের সঠিক বোঝাপড়া ও হজ্জ-উমরার শিক্ষা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮২৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا } فَمَا عَلَى الرَّجُلِ شَيْءٌ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ كَلَّا لَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَتْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْأَنْصَارِ كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ سَأَلُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى{ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا .

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) হতে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা)-কে বললাম (তখন আমি অল্প বয়ষ্ক), দেখুন, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন [১] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ সুতরাং যে কেউ বায়তুল্লাহ্‌র হজ্জ বা উমরা করবে তার জন্য এই দুটির মধ্যে সা’য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই’ তাই কেউ যদি সা‘য়ী না করে তবে তাতে তার গুনাহ হবে কি ? তিনি বললেন, সাবধান, তুমি যা বুঝেছ তা ঠিক নয়। তাই যদি হত তবে আয়াতে বলার ভঙ্গী হত ‘এই দুইয়ের মধ্যে সায়ী না করায় কোন গুনাহ্ নেই।’ (অথচ আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, সা’য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই।) এই আয়াতটি মূলত আনসারদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল। এরা জাহিলী যুগে মানাতের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে হজ্জের নিয়তে আসত। মক্কার পথে কুদায়দ নামক স্থানের বিপরীতে ছিল ওদের দেবী মানাত। সাফা-মারওয়ায় সা’য়ী করা তারা মনে করত গুনাহ্’র কাজ। ইসলাম আসার পর তারা রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন নাযিল হয় এই আয়াত إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا [২] (বুখারী ১৭৯০, মুসলিম ১২৭৭)

[১] নিশ্চয়ই সাফা মারওয়া আল্ল্হা তা’আলার বিশেষ নিদর্শনসমূহের অন্যতম।’[২] ‘সাফা ও মারওয়া’ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কা’বাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা করতে চাইলে এই দুটির মধ্যে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। (সূরা: আল-বাকারাহ, ১৫৮)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮২৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উরওয়াহ (র) উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.)-কে সাফা-মারওয়ার আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তাঁর ধারণা ছিল, আয়াতে যেহেতু বলা হয়েছে সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’য়ী করায় কোনো গুনাহ নেই, তাই কেউ সা’য়ী না করলেও সমস্যা নেই। আয়েশা (রা.) এই বোঝাকে সংশোধন করেন। তিনি বলেন, যদি অর্থ তা-ই হত, তাহলে ভাষা হত—সা’য়ী না করায় কোনো গুনাহ নেই। বরং আয়াতটি নাযিল হয়েছিল আনসারদের একটি দ্বিধা দূর করার জন্য। তারা জাহিলী যুগের একটি অভ্যাসের কারণে সাফা-মারওয়ায় সা’য়ী করতে সংকোচ বোধ করত। ইসলাম আসার পর প্রশ্ন করলে আল্লাহ জানিয়ে দেন যে সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তাই এই হাদিস সাফা মারওয়া সায়ী এবং কুরআনের আয়াত ঠিকভাবে বোঝার গুরুত্ব শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়াতের ভাষা বুঝতে সতর্ক থাকা দরকার।
  • সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
  • ভুল ধারণা হলে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করা উচিত।
  • সা’য়ী নিয়ে আনসারদের দ্বিধা আয়াতের মাধ্যমে দূর করা হয়েছিল।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন