২/১২. অধ্যায়ঃ
জখম অথবা নাক হতে প্রবাহিত রক্ত প্রবল হলে কি করতে হবে
নামাজের গুরুত্ব: কঠিন অবস্থাতেও সালাত না ছাড়ার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنْ اللَّيْلَةِ الَّتِي طُعِنَ فِيهَا فَأَيْقَظَ عُمَرَ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَقَالَ عُمَرُ نَعَمْ وَلَا حَظَّ فِي الْإِسْلَامِ لِمَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ فَصَلَّى عُمَرُ وَجُرْحُهُ يَثْعَبُ دَمًا.
মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (র) হতে বর্ণিতঃ
যে রাত্রে উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে ছুরিকাঘাত করা হয়, সেই রাত্রে জনৈক ব্যক্তি (কোন কোন বর্ণনায় বোঝা যায় যে, প্রবেশকারী সেই ব্যক্তি ছিলেন স্বয়ং মিসওয়ার ইবনু মাখরামা।) উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে আসল। উমার (রাঃ)-কে ফজরের নামাযের জন্য জাগানো হল। উমার (রাঃ) বললেন হ্যাঁ, আমি এই অবস্থায়ও নামায আদায় করি। যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দেয়, ইসলামে তার কোন স্থান নেই। অতঃপর উমার (রাঃ) নামায আদায় করলেন অথচ তাঁর জখম হতে তখন রক্ত বের হচ্ছি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর জীবনের এক কঠিন মুহূর্তের কথা এসেছে। তাঁকে যে রাতে ছুরিকাঘাত করা হয়, সেই রাতেই ফজরের নামাজের জন্য জাগানো হলে তিনি নামাজ আদায় করেন। তাঁর শরীর থেকে তখনও রক্ত বের হচ্ছিল। তবু তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয়, ইসলামে তার কোনো স্থান নেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নামাজ একজন মুসলিমের জীবনে খুব বড় দায়িত্ব। এই বর্ণনায় অসুস্থতা, আঘাত ও কষ্টের মধ্যেও নামাজের প্রতি যত্নের দৃষ্টান্ত দেখা যায়। তবে হাদিসের আলোচনাটি উমার (রাঃ)-এর অবস্থার বর্ণনা; তাই এখান থেকে অতিরিক্ত নিয়ম বানানো নয়, বরং নামাজের গুরুত্ব বোঝাই মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজ মুসলিম জীবনের কেন্দ্রীয় ইবাদত; এটিকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
- কঠিন অবস্থাতেও নামাজের কথা মনে রাখা ঈমানী দায়িত্ববোধের পরিচয়।
- উমার (রাঃ)-এর আমল নামাজের প্রতি সাহাবিদের গভীর যত্ন দেখায়।
- ইবাদতের বিষয়ে অলসতা নয়, বরং সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা উচিত।
