২০/১৫. অধ্যায়ঃ
হাদ্য়ী-র গলায় কিছু লটকালেই কেউ মুহরিম হয়ে যায় না
হাদয়ী পাঠালে মুহরিম হওয়া কি জরুরি?
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৭৪৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৭৪৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ زِيَادَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ أَهْدَى هَدْيًا حَرُمَ عَلَيْهِ مَا يَحْرُمُ عَلَى الْحَاجِّ حَتَّى يُنْحَرَ الْهَدْيُ وَقَدْ بَعَثْتُ بِهَدْيٍ فَاكْتُبِي إِلَيَّ بِأَمْرِكِ أَوْ مُرِي صَاحِبَ الْهَدْيِ قَالَتْ عَمْرَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ لَيْسَ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا فَتَلْتُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيَّ ثُمَّ قَلَّدَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ ثُمَّ بَعَثَ بِهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ أَبِي فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْءٌ أَحَلَّهُ اللهُ لَهُ حَتَّى نُحِرَ الْهَدْيُ.
‘আমরা বিনত আবদুর রহমান (র) হতে বর্ণিতঃ
যিয়াদ ইবনু আবূ সুফইয়ান নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিনী আয়েশা (রা)-এর নিকট চিঠি লিখলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, যবেহ না হওয়া পর্যন্ত কুরবানীর উদ্দেশ্যে মক্কায় পশু প্রেরণকারীর উপর ইহরাম পালনরত ব্যক্তির মত সকল জিনিস হারাম হয়ে যায়। আমি আপনার নিকট পশু [১] (হাদ্য়ী) প্রেরণ করলাম। আশা করি, উক্ত পশুর সাথে প্রেরিত ব্যক্তির নিকট অথবা পত্রযোগে আমাকে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে আপনার ফতওয়া জানাবেন। ‘আমরা বলেন, আয়েশা (রা) বললেন, ইবনু আব্বাস (রা) যা বলেছেন তা ঠিক নয়। আমি নিজের হাতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক প্রেরিত পশুর রশি পাকিয়েছিলাম। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে তা উহার গলায় পরিয়ে আমার পিতার সাথে উহা মক্কায় প্রেরণ করেছিলেন। অথচ উক্ত পশুটি যবেহ হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যেও কোন হালাল জিনিস রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য হারাম হয়নি। (বুখারী ১৭০০, মুসলিম ১৩২১)
[১] কুরবানীর উদ্দেশ্যে মক্কায় যে সমস্ত পশু প্রেরণ করা হয় উহাকে হাদয়ী বলে। নিদর্শন হিসেবে হাদয়ী গলায় হাড়, চামড়া ইত্যাদি লটকানকে তাকলীদ বলা হয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাদয়ী বা কুরবানীর পশু মক্কায় পাঠানোর একটি মাসআলা এসেছে। যিয়াদ ইবনু আবূ সুফইয়ান আয়েশা (রা)-এর কাছে জানতে চান, কেউ পশু পাঠালে কি তার উপর মুহরিমের মতো সব নিষেধাজ্ঞা চলে আসবে? কারণ ইবনু আব্বাস (রা) থেকে এমন কথা বলা হয়েছিল। আয়েশা (রা) স্পষ্ট করেন, বিষয়টি সে রকম নয়। তিনি বলেন, তিনি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদয়ীর রশি পাকিয়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ নিজে তা পশুর গলায় পরিয়ে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু পশু যবেহ হওয়া পর্যন্ত তাঁর জন্য হালাল কোনো জিনিস হারাম হয়নি। তাই এই বর্ণনায় হাদয়ী পাঠানো, ইহরামের বিধান এবং আয়েশা (রা)-এর সরাসরি সাক্ষ্য—সবই পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু হাদয়ী পাঠানো মানেই মুহরিম হয়ে যাওয়া নয়।
- মাসআলা বুঝতে সরাসরি বর্ণিত আমলের গুরুত্ব আছে।
- আয়েশা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আমল দিয়ে ভুল ধারণা পরিষ্কার করেছেন।
