২০/৯. অধ্যায়ঃ
ইহরাম বাঁধার ও সেই সময় তালবিয়া পাঠ করার পদ্ধতি
তালবিয়ার দোয়া: লাব্বায়কা পাঠের অর্থ ও শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৭২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৭২১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ تَلْبِيَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبَّيْكَ اللهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ يَزِيدُ فِيهَا لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ.
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া এইরূপلَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ [১] নাফি’ (র) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) তৎসঙ্গে এটাও বৃদ্ধি করতেন لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ [২] (বুখারী ১৫৪৯, মুসলিম ১১৮৪)
[১] বারবার হাযির হই হে পরওয়ারদিগার! বারবার আমি তোমার দ্বারে হাযির হই, বারবার তোমার দরবারে হাযির হই, কোন শরীক নেই তোমার, বারবার আমি তোমার দ্বারে হাযির হই, নিঃসন্দেহে সকল প্রশংসা ও নিয়ামত এবং রাজত্ব তোমারই। কোন শরীক নেই তোমার।[২] আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি হাযির, সৌভাগ্য তোমার নিকট হতে, মঙ্গল তোমার হাতেই, আমি তোমার দরবারে হাযির, আমার সকল প্রেরণা আর আমার সকল কর্মে একমাত্র উদ্দেশ্য তুমিই।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ صلى الله عليه وسلم-এর তালবিয়ার মূল বাক্য বর্ণনা করা হয়েছে। হজ ও উমরার ইহরামে তালবিয়া পাঠ একটি গভীর ইবাদত। এখানে বান্দা বলে, সে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছে। তালবিয়ার দোয়ার মূল কথা হলো—আল্লাহর কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা তাঁর, সব নিয়ামত তাঁর পক্ষ থেকে, আর রাজত্বও তাঁরই। নাফি’ (র) আরও জানান, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) এর সঙ্গে কিছু বাক্য বাড়িয়ে পড়তেন। সেই বাড়তি বাক্যেও আল্লাহর দিকে আশা, কল্যাণ তাঁর হাতে থাকা এবং আমল তাঁর জন্য হওয়ার কথা আছে। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, লাব্বায়কা শুধু মুখের শব্দ নয়; এটি তাওহীদ, বিনয় ও আল্লাহর সামনে হাজির হওয়ার ঘোষণা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালবিয়া পাঠে আল্লাহর একত্ব ও শরিকহীনতা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়।
- সব প্রশংসা, নিয়ামত ও মালিকানা আল্লাহর—এ বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে থাকা দরকার।
- ইহরামে লাব্বায়কা পাঠ বান্দার আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রকাশ।
- আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-এর বাড়তি বাক্যগুলোতে আল্লাহর প্রতি আশা ও আমলের কথা আসে।
