২/৬. অধ্যায়ঃ
ওযূ সম্পর্কীয় বিবিধ হাদীস
ওযূর হিফাযত ও নামাজ: মুমিনের ধারাবাহিক আমল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৬
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْمَلُوا وَخَيْرُ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَلَا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট হাদীস পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে শরীয়ত তোমাদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে তার উপর তোমরা দৃঢ়তার সাথে থাক, পূর্ণ ইস্তিকামাত বা দৃঢ়তার সামর্থ্য তো তোমাদের নেই। তাই আমল করতে থাক। তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো নামায। মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ ওযূর যথাযোগ্য হিফাযত (পূর্ণঙ্গভাবে ওযূ করার প্রতি লক্ষ্য রাখার নাম মুহাফিযাত) করে না। (সহীহ, সাওবান (রাঃ) থেকে ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেন ২৭৭, আল্লামা আলবানী সহীহ আল জামে গ্রন্থে ৯৫২ সহীহ বলেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি বড় শিক্ষা একসাথে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের জন্য নির্ধারিত শরীয়তের উপর দৃঢ় থাকো, যদিও পূর্ণ ইস্তিকামাতের ক্ষমতা মানুষের নেই। তাই আমল করতে থাকো। এরপর বলা হয়েছে, আমলসমূহের মধ্যে উত্তম আমল হলো নামাজ। আর মু’মিন ছাড়া অন্য কেউ ওযূর যথাযথ হিফাযত করে না। এখানে ওযূর হিফাযত মানে অযূকে গুরুত্ব দেওয়া, ঠিকভাবে করা এবং নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে যত্ন নেওয়া। হাদিসটি হতাশ না হয়ে নিয়মিত আমল, নামাজের গুরুত্ব এবং পবিত্রতার প্রতি মুমিনের মনোযোগ শেখায়। মানুষ দুর্বল, তাই পূর্ণতার দাবি না করে নিয়মিত চেষ্টা করা জরুরি। এই বর্ণনা সেই ধারাবাহিক চেষ্টাকেই সহজ ভাষায় সামনে আনে। অযূর প্রতি যত্ন তাই মুমিনের দৈনন্দিন ইবাদতকে শক্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীয়তের পথে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করতে হবে।
- নামাজকে আমলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যত্ন করা দরকার।
- ওযূর হিফাযত মুমিনের সচেতনতার পরিচয়।
