১৮/১০. অধ্যায়ঃ
রোযাদারের শিঙ্গা লাগানো
শিঙ্গা লাগালে রোযা ভাঙে কি: উরওয়াহ্ (র)-এর আমল ও ইমাম মালিকের কথা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৪৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৪৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَحْتَجِمُ وَهُوَ صَائِمٌ ثُمَّ لَا يُفْطِرُ قَالَ وَمَا رَأَيْتُهُ احْتَجَمَ قَطُّ إِلَّا وَهُوَ صَائِمٌ ১قَالَ مَالِك لَا تُكْرَهُ الْحِجَامَةُ لِلصَّائِمِ إِلَّا خَشْيَةً مِنْ أَنْ يَضْعُفَ وَلَوْلَا ذَلِكَ لَمْ تُكْرَهْ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا احْتَجَمَ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ سَلِمَ مِنْ أَنْ يُفْطِرَ لَمْ أَرَ عَلَيْهِ شَيْئًا وَلَمْ آمُرْهُ بِالْقَضَاءِ لِذَلِكَ الْيَوْمِ الَّذِي احْتَجَمَ فِيهِ لِأَنَّ الْحِجَامَةَ إِنَّمَا تُكْرَهُ لِلصَّائِمِ لِمَوْضِعِ التَّغْرِيرِ بِالصِّيَامِ فَمَنْ احْتَجَمَ وَسَلِمَ مِنْ أَنْ يُفْطِرَ حَتَّى يُمْسِيَ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ شَيْئًا وَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءُ ذَلِكَ الْيَوْمِ.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) হতে বর্ণিতঃ
হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি শিঙ্গা লাগাতেন অথচ তিনি রোযাদার। অতঃপর এই কারণে রোযা ভঙ্গ করতেন না। হিশাম বলেন, আমি তাঁকে রোযাদার অবস্থা ছাড়া কখনো শিঙ্গা লাগাতে দেখিনি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, রোযাদারের শিঙ্গা লাগানো মাকরূহ নয় কিন্তু দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় হলে মাকরূহ, দুর্বল না হলে এটা মাকরূহ হবে না। আর যদি কোন ব্যক্তি রমযানে শিঙ্গা লাগায়, অতঃপর রোযা ভঙ্গ করা হতে বিরত থাকে, আমি তার জন্য কোন কিছু (লাগবে বলে) মনে করি না এবং যেদিন শিঙ্গা লাগিয়েছে সেই দিনের রোযা কাযা করার হুকুমও করি না। কেননা রোযার ক্ষতির আশংকায় রোযাদারের জন্য শিঙ্গা লাগানো মাকরূহ করা হয়েছে। ফলে যে ব্যক্তি লাগিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত রোযা ইফতার করা হতে বিরত রয়েছে আমি তার জন্য কোন দোষ মনে করি না এবং তার উপর সেই দিনের (রোযার) কাযাও প্রয়োজন হবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা সম্পর্কে বলেন, তিনি রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগাতেন এবং এর কারণে রোযা ভঙ্গ করতেন না। হিশাম বলেন, তিনি তাঁকে রোযাদার অবস্থা ছাড়া শিঙ্গা লাগাতে দেখেননি। এরপর ইমাম মালিক (র) বলেন, রোযাদারের শিঙ্গা লাগানো নিজে মাকরূহ নয়; দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে তা মাকরূহ। কেউ রমযানে শিঙ্গা লাগিয়ে রোযা না ভাঙলে তাঁর মতে তার উপর কিছু নেই এবং সেই দিনের কাযাও নেই। এই বর্ণনায় রোযা অবস্থায় হিজামা বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে। মূল চিন্তা হলো, কাজটি রোযাকে ঝুঁকিতে ফেলছে কি না। দুর্বলতা না হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উরওয়াহ্ (র) রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়ে রোযা ভাঙতেন না।
- ইমাম মালিক (র) দুর্বলতার ভয়কে মাকরূহ হওয়ার কারণ বলেছেন।
- শিঙ্গা লাগিয়ে রোযা পূর্ণ করলে কাযার কথা তিনি বলেননি।
- রোযাকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন কাজ থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
