১৮/৯. অধ্যায়ঃ
রমযানের রোযা ভঙ্গ করার কাফ্ফারা
রমযানের রোযা ভঙ্গের কাফফারা: দায়িত্ব ও নবীজির কোমলতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৪৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৪৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُكَفِّرَ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ أَوْ صِيَامِ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ أَوْ إِطْعَامِ سِتِّينَ مِسْكِينًا فَقَالَ لَا أَجِدُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَقِ تَمْرٍ فَقَالَ خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَجِدُ أَحْوَجَ مِنِّي فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ كُلْهُ.
আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রমযানের রোযা ভঙ্গ করেছে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে একটি ক্রীতদাস আযাদ করার নির্দেশ দিলেন অথবা একনাগাড়ে দুই মাস রোযা রাখার অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার দেয়ার জন্য বললেন। লোকটি বলল, আমি সামর্থ্য রাখি না। তারপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হয়। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা গ্রহণ কর এবং সদকা কর। লোকটি বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ্! আমার হতে অধিক মুহতাজ আমি পাইনি। (এই কথা শুনে) হাসলেন. এমনকি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনের দন্ত মুবারক প্রকাশিত হল। অতঃপর বললেন। এটা তুমি খাও। (বুখারী ১৯৩৬, মুসলিম ১১১১)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রমযানের রোযা ভঙ্গ করার পর রাসূলুল্লাহ্ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসে। তাঁকে কাফফারা হিসেবে একটি ক্রীতদাস আযাদ করা, অথবা একনাগাড়ে দুই মাস রোযা রাখা, অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু লোকটি জানায়, সে এসবের সামর্থ্য রাখে না। পরে নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর কাছে খেজুর আসে। তিনি তা সদকা করতে বলেন। লোকটি জানায়, তার চেয়ে বেশি অভাবী কাউকে সে পায় না। তখন রাসূলুল্লাহ্ صلى الله عليه وسلم হাসলেন এবং তাকে সেই খেজুর খেতে বললেন। এই বর্ণনায় রমযানের রোযা ভঙ্গের কাফফারা যেমন স্পষ্ট, তেমনি মানুষের বাস্তব অসহায় অবস্থার প্রতি নবীজির দয়া ও সহজ আচরণও দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমযানের রোযা ভঙ্গ করা হালকা বিষয় নয়; এতে কাফফারার কথা এসেছে।
- কাফফারায় সামর্থ্য বিবেচনার বিষয়টি এই বর্ণনায় দেখা যায়।
- অভাবী মানুষের কথা শুনে নবীজি صلى الله عليه وسلم কোমল আচরণ করেছেন।
- দ্বীনের বিধান দায়িত্ব শেখায়, আবার অসহায় অবস্থাও বিবেচনা করে।
