১৮/৮. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি রমযানে সফর হতে প্রত্যাবর্তন করে অথবা রমযানে সফরের ইচ্ছা করে সে কি করবে?
সফর থেকে ফেরার রোযা: ফজর, ঘরে ফেরা ও পরিবার সংক্রান্ত মাসআলা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৪২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৪২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فِي رَمَضَانَ فَعَلِمَ أَنَّهُ دَاخِلٌ الْمَدِينَةَ مِنْ أَوَّلِ يَوْمِهِ دَخَلَ وَهُوَ صَائِمٌ ১قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك مَنْ كَانَ فِي سَفَرٍ فَعَلِمَ أَنَّهُ دَاخِلٌ عَلَى أَهْلِهِ مِنْ أَوَّلِ يَوْمِهِ وَطَلَعَ لَهُ الْفَجْرُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ دَخَلَ وَهُوَ صَائِمٌ ১قَالَ مَالِك وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ فِي رَمَضَانَ فَطَلَعَ لَهُ الْفَجْرُ وَهُوَ بِأَرْضِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ فَإِنَّهُ يَصُومُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ১قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقْدَمُ مِنْ سَفَرِهِ وَهُوَ مُفْطِرٌ وَامْرَأَتُهُ مُفْطِرَةٌ حِينَ طَهُرَتْ مِنْ حَيْضِهَا فِي رَمَضَانَ أَنَّ لِزَوْجِهَا أَنْ يُصِيبَهَا إِنْ شَاءَ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) রমযানে যদি সফরে থাকতেন, তবে তিনি যদি জানতেন যে, তিনি মদীনায় দিনের প্রথম দিকে প্রবেশ করবেন তবে তিনি রোযা অবস্থায় (মদীনায়) প্রবেশ করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, যে ব্যক্তি রমযানে সফরে থাকে অতঃপর জানতে পারে যে, সে নিজের পরিবার পরিজনের মধ্যে দিনের প্রথমদিকে প্রবেশ করবে এবং প্রবেশের পূর্বে ফজর হয়, তবে সে রোযা অবস্থায় প্রবেশ করবে।মালিক (র) বলেন, আর যে ব্যক্তি রমযানে সফরে বের হতে ইচ্ছা করে এবং স্বীয় (আবাস) ভূমিতে থাকতেই ফজর হয়, তার বের হওয়ার পূর্বে সেই দিনের রোযা রাখবে।মালিক (র) বলেন, যে ব্যক্তি রোযা না রাখা অবস্থায় সফর হতে ফিরেছে, আর তার স্ত্রীও রোযা রাখেনি (ঋতুমতী বলে), এখন রমযানের মধ্যে ঋতু হতে পাক হয়েছে, তবে তার স্বামী ইচ্ছা করলে (রোযার দিনে) তার সাথে সহবাস করতে পারে (কারণ দু’জনে রোযা অবস্থায় নয়)।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রমযানে সফর অবস্থায় রোযা রাখার কয়েকটি দিক এসেছে। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) যদি সফরে থাকতেন এবং জানতেন যে দিনের প্রথম ভাগে মদীনায় প্রবেশ করবেন, তাহলে তিনি রোযা অবস্থায় প্রবেশ করতেন। এরপর ইমাম মালিক (র) বলেন, কেউ যদি সফরে থাকে এবং ফজরের আগে বা ফজরের সময় জানে যে দিনের শুরুতেই নিজের পরিবারের কাছে পৌঁছাবে, তাহলে সে রোযা অবস্থায় ফিরবে। আবার কেউ নিজ এলাকায় থাকা অবস্থায় ফজর হলে, তারপর সফরে বের হতে চাইলে সে দিন রোযা রাখবে। শেষ অংশে এমন স্বামী-স্ত্রীর কথা এসেছে, যারা দুজনই রোযাদার নয়। এই হাদিসে রমযানে সফর, ঘরে ফেরা এবং ফজরের সময়ের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফর থেকে দিনের শুরুতে ফিরলে রোযা অবস্থায় ফেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- নিজ এলাকায় ফজর হলে সফরে বের হলেও সে দিনের রোযা রাখার কথা বলা হয়েছে।
- রোযার সিদ্ধান্তে ফজরের সময় একটি বড় সীমা হিসেবে এসেছে।
- স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারেও রোযাদার হওয়া বা না হওয়া বিবেচনায় এসেছে।
