১৮/৭. অধ্যায়ঃ
প্রবাসে রোযা রাখা
সফরে রোযা: সহজতা, সহনশীলতা ও চাপ না দেওয়ার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৪১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৪১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ فِي رَمَضَانَ وَنُسَافِرُ مَعَهُ فَيَصُومُ عُرْوَةُ وَنُفْطِرُ نَحْنُ فَلَا يَأْمُرُنَا بِالصِّيَامِ.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) হতে বর্ণিতঃ
উরওয়াহ্ (র) রমযানে সফর করতেন, আমরাও তাঁর সাথে সফর করতাম। অতঃপর উরওয়াহ্ (র) রোযা রাখতেন কিন্তু আমরা রোযা রাখতাম না, তিনি আমাদেরকে রোযা রাখতে বলতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সফরে রোযা রাখা এবং অন্যকে এ বিষয়ে জোর না করা। উরওয়াহ্ (র) রমযানে সফর করতেন এবং নিজে রোযা রাখতেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা লোকেরা রোযা রাখত না। গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি তাদেরকে রোযা রাখতে বলতেন না। তাই এখানে রমযানে সফরের রোযা নিয়ে এক ধরনের সহজ ও শান্ত আচরণ দেখা যায়। কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী রোযা রাখছে, আর কেউ সফরের কষ্টের কারণে রাখছে না—এ নিয়ে তিরস্কার বা চাপ নেই। আজকের পাঠকের জন্য এই বর্ণনার শিক্ষা হলো, দ্বীনের বিষয়ে নিজের আমলকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের অবস্থা বুঝে কথা বলা দরকার। সফরের রোযা, মুসাফিরের রোযা এবং রমযানে ছাড়—এই বিষয়গুলোতে নরম ভাষা ও সহনশীলতা রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে কেউ রোযা রাখলে সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করতে পারে।
- একই সফরে অন্যরা রোযা না রাখলেও তাদের উপর চাপ দেওয়া উচিত নয়।
- দ্বীনের আমলে নিজের অবস্থার সঙ্গে অন্যের অবস্থাও বুঝতে হয়।
- সহযাত্রীদের সঙ্গে রোযা নিয়ে নরম আচরণ করা ভালো শিক্ষা।
