১৮/৪. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তির জানাবত (গোসল ফরয হওয়া) অবস্থায় ফজর হয় সে ব্যক্তির রোযা

জানাবত অবস্থায় ফজর হলে রোযা রাখা যাবে কি?

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬২৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أَبِي يُونُسَ مَوْلَى عَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى الْبَابِ وَأَنَا أَسْمَعُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أُصْبِحُ جُنُبًا وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أُصْبِحُ جُنُبًا وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ فَأَغْتَسِلُ وَأَصُومُ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّكَ لَسْتَ مِثْلَنَا قَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ وَاللهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَعْلَمَكُمْ بِمَا أَتَّقِي.

আয়েশা (রা) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, তখন তিনি দরজায় দণ্ডায়মান ছিলেন, আর আমি শুনতেছিলাম, ইয়া রসূলুল্লাহ্! জানাবত অবস্থায় আমার ফজর হয় অথচ আমি রোযা রাখতে ইচ্ছা করি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমারও জানাবত অবস্থায় ফজর হয়, অথচ আমি রোযা রাখবার ইচ্ছা করি। তাই আমি গোসল করি এবং রোযা রাখি! তখন লোকটি তাঁর নিকট আরয করল, ইয়া রসূলাল্লাহ্! আপনি অবশ্য আমাদের মত নন। আল্লাহ্ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেছেন। এতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি আর আমি তাক্ওয়ার বিষয়ে তোমাদের অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত। (সহীহ, মুসলিম ১১১০)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬২৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জানাবত অবস্থায় রোযা। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, জানাবত অবস্থায় তার ফজর হয়, অথচ তিনি রোযা রাখতে চান। রাসূল صلى الله عليه وسلم বললেন, তাঁরও এমন হয়; তারপর তিনি গোসল করেন এবং রোযা রাখেন। এতে বোঝা যায়, ফজরের সময় জানাবত থাকা নিজে নিজে রোযা নষ্ট করে না, বরং গোসল করে রোযা রাখা যায়। লোকটি যখন বলল, আপনি আমাদের মতো নন, তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, তিনি আল্লাহকে বেশি ভয় করেন এবং তাকওয়ার বিষয় বেশি জানেন। তাই এই হাদিস রোযার মাসআলা শেখানোর পাশাপাশি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহকে নিজের ধারণার ওপর না রাখার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ফজরের সময় জানাবত থাকলে গোসল করে রোযা রাখা যায়।
  • রাসূল صلى الله عليه وسلم নিজের আমল দিয়ে মাসআলা পরিষ্কার করেছেন।
  • রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহকে ব্যক্তিগত ধারণার চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
  • তাকওয়া মানে সুন্নাহ থেকে দূরে গিয়ে কঠোরতা বানানো নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন