১৭/১৯. অধ্যায়ঃ
খেজুর, আঙ্গুর: যেসব ফল অনুমান করে বিক্রয় করা হয় সেসব ফলের যাকাত
ফসলের যাকাত: উশর ও নিসফে উশর কত
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৯২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৯২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ الثِّقَةِ عِنْدَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِيمَا سَقَتْ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ وَالْبَعْلُ الْعُشْرُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ.
সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) এবং বুসর ইবনু সাঈদ (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে সমস্ত যমীনে বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানি সিঞ্চিত হয় বা মূলস্থ রসই যথেষ্ট হয়, সেচের প্রয়োজন পড়ে না, সে সমস্ত যমীনে উৎপন্ন ফসলের উশর বা এক-দশমাংশ, আর সেচ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সমস্ত যমীন চাষ করা হয়, সে যমীনে উৎপন্ন ফসলের নিসফে উশর বা এক-বিংশতিতমাংশ (১/২০) হারে যাকাত দিতে হয়। (সহীহ, বুখারী ১৪৮৩, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের সনদে এবং তথা সন্দেহযুক্ত রাবী রয়েছে)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ফসলের যাকাতের হার পরিষ্কারভাবে বলেছেন। যে জমিতে বৃষ্টি, ঝর্ণা বা মূলস্থ রসের পানি যথেষ্ট হয় এবং আলাদা সেচের প্রয়োজন পড়ে না, সেই জমির উৎপন্ন ফসলের ওপর উশর, অর্থাৎ এক-দশমাংশ যাকাত দিতে হয়। আর যে জমিতে সেচ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি দিতে হয়, সেখানে নিসফে উশর, অর্থাৎ এক-বিংশতিতমাংশ যাকাত দিতে হয়। সহজ করে বললে, যে ফসল প্রাকৃতিক পানিতে উৎপন্ন হয় তার হার বেশি, আর যে ফসলে পানি দেওয়ার শ্রম ও খরচ আছে তার হার কম। এই হাদিস ফসলের যাকাতের হিসাবকে পানির উৎসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাই কৃষিজ যাকাত নির্ধারণের সময় শুধু ফসলের পরিমাণ নয়, কীভাবে জমি সেচ হয়েছে সেটিও দেখা দরকার। এটি কৃষকের বাস্তব কষ্ট ও খরচের দিক বিবেচনা করা একটি ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ম।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাকৃতিক পানিতে উৎপন্ন ফসলে উশর বা এক-দশমাংশ যাকাতের কথা এসেছে।
- সেচের মাধ্যমে উৎপন্ন ফসলে নিসফে উশর বা এক-বিংশতিতমাংশের কথা বলা হয়েছে।
- ফসলের যাকাতে পানির উৎস একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব।
- কৃষকের শ্রম ও সেচের খরচ বিবেচনায় যাকাতের হার আলাদা হয়েছে।
