১৭/১৮. অধ্যায়ঃ
যথাযথভাবে যাকাত আদায় করা এবং এ বিষয়ে কঠোরতা প্রদর্শন করা
যাকাত অস্বীকার করা: আবূ বকর (রা)-এর দৃঢ় অবস্থান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৮৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৮৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ قَالَ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالًا لَجَاهَدْتُهُمْ عَلَيْهِ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বক্র সিদ্দীক (রা) বলেছেন, যাকাতের বেলায় উট বাঁধার দড়িটি দিতেও যদি কেউ অস্বীকৃতি জানায় তবে তার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করব। [১] (বুখারী ১৪০০, মুসলিম ২০)
[১] রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত-এর পর কিছুসংখ্যক লোক যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। তখন আবূ বাকর (রা) এই কথা বলেছেন, “উট বাঁধার দড়িটিও দিতে যদি কেউ অস্বীকৃতি জানায় তবে তার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করব।”
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর একটি কঠোর কথা এসেছে। তিনি বলেন, যাকাতের ক্ষেত্রে উট বাঁধার দড়ি দিতেও যদি কেউ অস্বীকার করে, তবে তিনি তার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, যাকাত ইসলামের একটি বড় ফরজ দায়িত্ব। এটি কেবল ব্যক্তিগত দান নয়, বরং মুসলিম সমাজে নির্ধারিত হক আদায়ের অংশ। আবূ বকর (রা)-এর বক্তব্যে বোঝা যায়, যাকাতের সামান্য অংশও ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করা হালকা বিষয় নয়। তবে এই বর্ণনা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে সহিংসতায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য নয়; এটি ইসলামী শাসন ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অধীনে ফরজ আদায়ের গুরুত্ব বোঝায়। যাকাত অস্বীকারের বিষয়টি তাই শুধু অর্থ না দেওয়ার সমস্যা নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারিত হককে অস্বীকার করার ঝুঁকি বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাত ইসলামের ফরজ দায়িত্ব; সামান্য অংশও অবহেলা করা উচিত নয়।
- আবূ বকর (রা) যাকাত অস্বীকারকে খুব গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখেছেন।
- যাকাত ব্যক্তিগত দানের চেয়ে বড়—এটি নির্ধারিত অধিকার আদায়।
- ফরজ দায়িত্ব অস্বীকার করা মুসলিম সমাজে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
