১৭/১৭. অধ্যায়ঃ
কোন কোন ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা জায়েয
যাকাত কার জন্য হালাল: পাঁচ বিশেষ অবস্থার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৮৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৮৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلَّا لِخَمْسَةٍ لِغَازٍ فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ لِعَامِلٍ عَلَيْهَا أَوْ لِغَارِمٍ أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِهِ أَوْ لِرَجُلٍ لَهُ جَارٌ مِسْكِينٌ فَتُصُدِّقَ عَلَى الْمِسْكِينِ فَأَهْدَى الْمِسْكِينُ لِلْغَنِيِّ ৯২قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي قَسْمِ الصَّدَقَاتِ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ إِلَّا عَلَى وَجْهِ الْاجْتِهَادِ مِنْ الْوَالِي فَأَيُّ الْأَصْنَافِ كَانَتْ فِيهِ الْحَاجَةُ وَالْعَدَدُ أُوثِرَ ذَلِكَ الصِّنْفُ بِقَدْرِ مَا يَرَى الْوَالِي وَعَسَى أَنْ يَنْتَقِلَ ذَلِكَ إِلَى الصِّنْفِ الْآخَرِ بَعْدَ عَامٍ أَوْ عَامَيْنِ أَوْ أَعْوَامٍ فَيُؤْثَرُ أَهْلُ الْحَاجَةِ وَالْعَدَدِ حَيْثُمَا كَانَ ذَلِكَ وَعَلَى هَذَا أَدْرَكْتُ مَنْ أَرْضَى مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ৯২১قَالَ مَالِك وَلَيْسَ لِلْعَامِلِ عَلَى الصَّدَقَاتِ فَرِيضَةٌ مُسَمَّاةٌ إِلَّا عَلَى قَدْرِ مَا يَرَى الْإِمَامُ.
আতা ইবনু ইয়াসার (র) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, পাঁচ ধরনের ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা হালাল নয়। উক্ত পাঁচ ব্যক্তি হলেন, (এক) আল্লাহ্র পথে যুদ্ধরত মুজাহিদ, (দুই) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত উসুলকারী কর্মচারী, (তিন) ঋণগ্রস্ত, (চার) যে ব্যক্তি এটা দরিদ্র ব্যক্তি হতে খরিদ করে নেয়, (পাঁচ) প্রতিবেশী কোন দরিদ্র ব্যক্তি যদি তাকে এটা হাদিয়া হিসেবে প্রদান করে তবে সে ব্যক্তি ধনী হলেও এটা গ্রহণ করা তার জন্য যায়েয হবে। (সহীহ, আবূ দাঊদ ১৬৩৫, ইবনু মাজাহ ১৮৪১, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [সহীহ আল-জামে’ ৭২৫০] তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)মালিক (র) বলেন, আমাদের কাছে যাকাতের মাল বণ্টনের বিষয়টি ইসলামী সরকারের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। যারা বেশি অভাবী বা সংখ্যায় বেশি সরকার যতদিন প্রয়োজন মনে করবেন তাদেরকে দিবেন। কিছুদিন পর অন্য কোন ধরনের লোক বেশি অভাবগ্রস্থ বা সংখ্যায় বেশি হলে তাদেরকেও দিতে পারেন। মোট কথা, এ বিষয়টি হচ্ছে অভাব ও সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। আস্থাভাজন আলিমগণের নিকট হতে আমি উল্লিখিত বক্তব্যই শুনতে পেয়েছি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, পাঁচ ধরনের ব্যক্তি ছাড়া ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা হালাল নয়। প্রথমত, আল্লাহর পথে যুদ্ধরত মুজাহিদ। দ্বিতীয়ত, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত উসুলকারী কর্মচারী। তৃতীয়ত, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। চতুর্থত, যে ব্যক্তি নিজের অর্থ দিয়ে যাকাতের মাল কোনো দরিদ্রের কাছ থেকে কিনে নেয়। পঞ্চমত, কোনো দরিদ্র প্রতিবেশী যাকাত পেয়ে পরে যদি তা ধনী প্রতিবেশীকে হাদিয়া দেয়, তবে ধনী ব্যক্তি তা গ্রহণ করতে পারে। এরপর মালিক (র) বলেন, যাকাতের মাল বণ্টনের বিষয়টি ইসলামী সরকারের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল; যেখানে অভাব ও প্রয়োজন বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। এই হাদিস যাকাতের হকদার কারা—সে বিষয়ে সীমা ও ব্যতিক্রম দুটোই শেখায়। একই সঙ্গে বোঝায়, যাকাত বণ্টনে প্রয়োজন, সংখ্যা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধনী ব্যক্তির জন্য সাধারণভাবে যাকাত গ্রহণের অনুমতি নেই।
- হাদিসে পাঁচটি বিশেষ অবস্থার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ধনী ব্যক্তিও যাকাতের মাল পেতে পারে।
- ঋণগ্রস্ত ও যাকাত কর্মচারীর বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
- যাকাত বণ্টনে প্রয়োজন ও বাস্তব অবস্থার দিকে দৃষ্টি দেওয়া যায়।
