১৭/১৫. অধ্যায়ঃ

দুই বৎসরের যাকাত একত্র হয়ে পড়লে তা আদায়ের পন্থা

বকেয়া যাকাতে আদায়ের দিনের সম্পদ কীভাবে ধরা হবে

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৮৬

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ تَجِبُ عَلَيْهِ الصَّدَقَةُ وَإِبِلُهُ مِائَةُ بَعِيرٍ فَلَا يَأْتِيهِ السَّاعِي حَتَّى تَجِبَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ أُخْرَى فَيَأْتِيهِ الْمُصَدِّقُ وَقَدْ هَلَكَتْ إِبِلُهُ إِلَّا خَمْسَ ذَوْدٍ قَالَ مَالِك يَأْخُذُ الْمُصَدِّقُ مِنْ الْخَمْسِ ذَوْدٍ الصَّدَقَتَيْنِ اللَّتَيْنِ وَجَبَتَا عَلَى رَبِّ الْمَالِ شَاتَيْنِ فِي كُلِّ عَامٍ شَاةٌ لِأَنَّ الصَّدَقَةَ إِنَّمَا تَجِبُ عَلَى رَبِّ الْمَالِ يَوْمَ يُصَدِّقُ مَالَهُ فَإِنْ هَلَكَتْ مَاشِيَتُهُ أَوْ نَمَتْ فَإِنَّمَا يُصَدِّقُ الْمُصَدِّقُ زَكَاةَ مَا يَجِدُ يَوْمَ يُصَدِّقُ وَإِنْ تَظَاهَرَتْ عَلَى رَبِّ الْمَالِ صَدَقَاتٌ غَيْرُ وَاحِدَةٍ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُصَدِّقَ إِلَّا مَا وَجَدَ الْمُصَدِّقُ عِنْدَهُ فَإِنْ هَلَكَتْ مَاشِيَتُهُ أَوْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ فِيهَا صَدَقَاتٌ فَلَمْ يُؤْخَذْ مِنْهُ شَيْءٌ حَتَّى هَلَكَتْ مَاشِيَتُهُ كُلُّهَا أَوْ صَارَتْ إِلَى مَا لَا تَجِبُ فِيهِ الصَّدَقَةُ فَإِنَّهُ لَا صَدَقَةَ عَلَيْهِ وَلَا ضَمَانَ فِيمَا هَلَكَ أَوْ مَضَى مِنْ السِّنِيْنَ.

মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ

কারো নিকট একশত উট ছিল। যাকাত উসুলকারী তার কাছে এল না, এমনকি দ্বিতীয় বৎসরও অতিক্রান্ত হয়ে গেল। আর এই দিকে মাত্র পাঁচটি উট ছাড়া তার বাকি সমস্ত উট মারা গেল। এই অবস্থায় যাকাত উসুলকারী তার কাছ থেকে পাঁচটি উটের দুই বৎসরের যাকাত প্রতি বৎসরের একটি করে বকরী দুই বৎসরের দুটি বকরী আদায় করবে। কারণ যাকাত আদায় করার দিন যে সম্পদ মালিকের নিকট অবশিষ্ট থাকে কেবল এরই যাকাত করতে হয়। সুতরাং তার মালিকানাধীন পশু যদি মারা যায় বা তা বৃদ্ধি পায় তবে সে অনুসারেই তাকে যাকাত প্রদান করতে হবে। যদি কয়েক বৎসরের যাকাত বকেয়া হয়ে যায় তবে যাকাত উসুলকারী ঐ ব্যক্তির নিকট মওজুদ পশুগুলির যাকাত উসুল করবে। যদি সমস্ত পশু বিনষ্ট হয়ে যায় বা বিনষ্ট হওয়ার পর যা অবশিষ্ট রইল তা যদি নিসাব পরিমাণ না হয় তবে আর তাতে যাকাত ধার্য হবে না। এবং বিগত বৎসরগুলোর বকেয়াও তাকে আদায় করতে হবে না।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় এমন একজনের কথা বলা হয়েছে, যার একশত উট ছিল, কিন্তু যাকাত উসুলকারী সময়মতো আসেনি। দ্বিতীয় বছরও পার হয়ে যায়, আর এর মধ্যে পাঁচটি উট ছাড়া বাকি সব মারা যায়। মালিক (র) বলেন, তখন যাকাত উসুলকারী সেই পাঁচটি উটের ওপর দুই বছরের যাকাত হিসেবে দুইটি বকরী নেবে—প্রতি বছরের জন্য একটি করে। কারণ যাকাত আদায়ের দিনে মালিকের কাছে যে সম্পদ পাওয়া যায়, সেটির ভিত্তিতেই আদায় হবে। পশু মারা গেলে বা বৃদ্ধি পেলে হিসাব সেই অবস্থা অনুযায়ী হবে। আবার যদি সব পশু নষ্ট হয়ে যায়, অথবা অবশিষ্ট পশু নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে আর যাকাত ধার্য হবে না এবং অতীত বছরের জন্য ক্ষতিপূরণও থাকবে না। এই বর্ণনা বকেয়া যাকাতের হিসাবকে বাস্তব অবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, যাকাতের বিধান ন্যায্যতা ও বর্তমান সম্পদের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগ করা হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যাকাত আদায়ের দিনে যে সম্পদ মওজুদ থাকে, তার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
  • পশু কমে গেলে বা বেড়ে গেলে যাকাতের হিসাবও সেই অনুযায়ী বদলাতে পারে।
  • নিসাব না থাকলে পশুর যাকাত ধার্য হবে না—এ নীতি এখানে স্পষ্ট।
  • বকেয়া যাকাতের ক্ষেত্রেও বাস্তব মালিকানা ও অবশিষ্ট সম্পদ বিবেচ্য।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন