১৭/৭. অধ্যায়ঃ
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের যাকাত
মৃতের যাকাত, অসীয়ত ও উত্তরাধিকার সম্পদের হাওল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৭৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৭৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا هَلَكَ وَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاةَ مَالِهِ إِنِّي أَرَى أَنْ يُؤْخَذَ ذَلِكَ مِنْ ثُلُثِ مَالِهِ وَلَا يُجَاوَزُ بِهَا الثُّلُثُ وَتُبَدَّى عَلَى الْوَصَايَا وَأَرَاهَا بِمَنْزِلَةِ الدَّيْنِ عَلَيْهِ فَلِذَلِكَ رَأَيْتُ أَنْ تُبَدَّى عَلَى الْوَصَايَا قَالَ وَذَلِكَ إِذَا أَوْصَى بِهَا الْمَيِّتُ قَالَ فَإِنْ لَمْ يُوصِ بِذَلِكَ الْمَيِّتُ فَفَعَلَ ذَلِكَ أَهْلُهُ فَذَلِكَ حَسَنٌ وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ أَهْلُهُ لَمْ يَلْزَمْهُمْ ذَلِكَ ৮৭قَالَ وَالسُّنَّةُ عِنْدَنَا الَّتِي لَا اخْتِلَافَ فِيهَا أَنَّهُ لَا يَجِبُ عَلَى وَارِثٍ زَكَاةٌ فِي مَالٍ وَرِثَهُ فِي دَيْنٍ وَلَا عَرْضٍ وَلَا دَارٍ وَلَا عَبْدٍ وَلَا وَلِيدَةٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَى ثَمَنِ مَا بَاعَ مِنْ ذَلِكَ أَوْ اقْتَضَى الْحَوْلُ مِنْ يَوْمَ بَاعَهُ وَقَبَضَهُ ৮৭১-و قَالَ مَالِك السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَا تَجِبُ عَلَى وَارِثٍ فِي مَالٍ وَرِثَهُ الزَّكَاةُ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
কেউ যদি যাকাত ফরয হওয়া সত্ত্বেও তা আদায় না করে মারা যায় তবে তার সাকল্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ হতে ঐ যাকাত উসুল করা হবে। মৃতের অসীয়ত পূরণের উপরও এই যাকাত উসুলকে প্রাধান্য দেয়া হবে। কেননা এটা ঋণের মতই। আর ঋণ অসীয়ত পূরণের পূর্বে আদায় হয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তি যাকাত আদায় করা অসীয়ত করে গেলেই কেবল উল্লিখিত হুকুম হবে। অসীয়ত না করে গেলেও ওয়ারিসান যদি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তা আদায় করে দেয় তবে ভালই। কিন্তু তাদের জন্য এটা করা জরুরী নয়।মালিক (র) বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাস’আলা হল, ওয়ারাসাত সূত্রে প্রাপ্ত ধন-সম্পত্তি, দাস-দাসী, ঘর-বাড়ি কোন কিছুরই যাকাত ওয়ারিসের উপর ধার্য হবে না। কিন্তু কেউ যদি ঐ সম্পত্তি বিক্রয় করে দেয়, তবে বিক্রয়ের মূল্য হস্তগত হওয়ার পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এর মূল্যে যাকাত ধার্য হবে।মালিক (র) বলেন, আমাদের নিকট গৃহীত পদ্ধতি এই যে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধন-সম্পত্তিতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বকেয়া যাকাত ও উত্তরাধিকার সম্পদের যাকাত নিয়ে কয়েকটি কথা এসেছে। মালিক (র) বলেন, কেউ যাকাত ফরজ হওয়া সত্ত্বেও না দিয়ে মারা গেলে এবং সে যাকাত আদায়ের অসীয়ত করে গেলে তার পরিত্যক্ত সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে তা আদায় করা হবে। এটি অসীয়তের আগে গুরুত্ব পাবে, কারণ তিনি একে ঋণের মতো দেখেছেন। যদি অসীয়ত না করে যায়, আর ওয়ারিসরা নিজেরা তা আদায় করে, তাহলে তা ভালো; তবে তাদের উপর তা জরুরি নয় বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদে ওয়ারিসের উপর যাকাত আসবে না, যতক্ষণ না সেই সম্পদ বা বিক্রয়মূল্যে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত ব্যক্তি বকেয়া যাকাতের অসীয়ত করলে তা গুরুত্বসহ আদায় করা হয়।
- যাকাতকে ঋণের মতো গুরুতর দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়েছে।
- উত্তরাধিকার সম্পদে ওয়ারিসের নতুন হাওল শুরু হয়।
- ওয়ারিসরা স্বেচ্ছায় বকেয়া যাকাত দিলে তা ভালো বলা হয়েছে।
