২/৫. অধ্যায়ঃ
আগুনে জ্বাল দেওয়া বস্তু খেয়ে ওযূ না করা
আগুনে রান্না করা খাবার খেলে ওযূ করতে হবে কি
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ الرَّجُلِ يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُصِيبُ طَعَامًا قَدْ مَسَّتْهُ النَّارُ أَيَتَوَضَّأُ قَالَ رَأَيْتُ أَبِي يَفْعَلُ ذَلِكَ وَلَا يَتَوَضَّأُ.
ইয়াহইয়াহ ইবনু সাঈদ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রবী’আ (র)-এর কাছে একটি প্রশ্ন করলেন এমন এক লোক সম্পর্কে, যে নামাযের জন্য ওযূ করে আগুনে রন্ধন করা খাদ্যবস্ত খেল, সে কি ওযূ করবে? তিনি বললেন, আমার পিতাকে দেখেছি তিনি এইরূপ রান্না করা খাদ্য খেতেন কিন্তু ওযূ করতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগুনে রান্না করা খাবার খাওয়ার পর ওযূ করতে হবে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর এসেছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রবী’আ (র)-এর কাছে জানতে চাইলেন, কেউ যদি নামাযের জন্য ওযূ করে, তারপর আগুনে রান্না করা খাবার খায়, সে কি আবার ওযূ করবে? উত্তরে তিনি বললেন, তিনি তাঁর পিতাকে এমন করতে দেখেছেন; অর্থাৎ রান্না করা খাবার খেতেন, কিন্তু নতুন ওযূ করতেন না। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, রান্না করা খাবার খাওয়া নিজে ওযূ ভঙ্গের কারণ নয়। এখানে সাহাবি পরিবারের আমল দিয়ে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে, কোনো কঠিন বা বাড়তি শর্ত যোগ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আগুনে রান্না করা খাবার খাওয়ার পর নতুন ওযূ করা বাধ্যতামূলক বলা হয়নি।
- আবদুল্লাহ ইবনু আমির তাঁর পিতার আমলকে দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- খাবার খাওয়ার আগে ওযূ থাকলে শুধু খাবারের কারণে তা নষ্ট হয় না।
- পবিত্রতার বিষয়ে সাহাবাদের আমল থেকে সহজ শিক্ষা নেওয়া যায়।
