১৫/১০. অধ্যায়ঃ
ফজর ও আসরের পর নামায নিষিদ্ধ হওয়া
আসর নামাজ দেরি করা ও অল্প জিকিরের সতর্ক শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৯৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৯৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلَاةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتْ الشَّمْسُ وَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيْ الشَّيْطَانِ أَوْ عَلَى قَرْنِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيْلًا.
আলী ইবনু আবদুর রহমান (র) হতে বর্ণিতঃ
আমরা যোহরের পর আনাস ইবনু মালিক (রা)-এর নিকট গেলাম, তিনি আসর আদায় করতে দাঁড়ালেন। যখন তিনি নামায সমাপ্ত করলেন, তখন নামাযে তাড়াতাড়ি করার বিষয় উল্লেখ করলাম অথবা তিনি উল্লেখ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায। তাদের একজন বসে থাকে। যখন সূর্য হলুদ বর্ণের হয়ে যায় এবং উহা মিলিত হয় শয়তানের শিংয়ের সাথে। সে উঠে এবং চারটি ঠোকর মারে [১] । উহাতে আল্লাহকে স্মরণ করে অতি অল্প। (সহীহ, মুসলিম ৬২২)
[১] তাড়াতাড়ি নামায আদায় করে এরূপভাবে সিজদা করে যেমন ঠোকর মারে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসর নামাজ অযথা দেরি করে পড়ার বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে লোকেরা যোহরের পর যায়। তিনি আসর আদায় করেন। এরপর নামাজ দ্রুত করার কথা উঠলে তিনি বলেন, তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন—ওটি মুনাফিকদের নামাজ। বর্ণনায় বলা হয়েছে, তাদের একজন বসে থাকে; যখন সূর্য হলুদ হয়ে যায় এবং শয়তানের শিংয়ের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন সে উঠে চার রাকাত ঠোকর মারে এবং তাতে আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো আসর নামাজের ব্যাপারে গাফিল না হওয়া, দেরি করে তাড়াহুড়া না করা এবং নামাজে আল্লাহর স্মরণকে অবহেলা না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আসর নামাজ অযথা শেষ সময়ে ঠেলে দেওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়া নিন্দিত ভঙ্গি হিসেবে এসেছে।
- নামাজে আল্লাহর স্মরণ অল্প করা গাফিলতির চিহ্ন হতে পারে।
- সময়মতো ও মনোযোগসহ নামাজ আদায় করা উচিত।
