২/৪. অধ্যায়ঃ
যাতে ওযূ ওয়াজিব হয় না
লাশ বহন করলে ওযূ লাগে কি: ইবনু উমার (রাঃ)-এর আমল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ حَنَّطَ ابْنًا لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ وَحَمَلَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ৬৯-قَالَ يَحْيَى و سُئِلَ مَالِك هَلْ فِي الْقَيْءِ وُضُوءٌ قَالَ لَا وَلَكِنْ لِيَتَمَضْمَضْ مِنْ ذَلِكَ وَلْيَغْسِلْ فَاهُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ وُضُوءٌ.
নাফি’ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সাঈদ ইবনু যায়দ-এর এক (মৃত) পুত্রকে হানূত (এক প্রকারের খোশবু, যা মৃত ব্যক্তিকে লাগানোর জন্য তৈরি করা হয়।) লাগালেন এবং তাঁর লাশ বহন করলেন, অতঃপর ওযূ না করে মসজিদে প্রবেশ করে তিনি নামায আদায় করলেন।মালিক (র)-কে প্রশ্ন করা হল, বমি করলে ওযূ করতে হবে কি? তিনি বললেন, না। তবে এর জন্য কুলি করবে এবং তাঁর মুখ ধুবে। তার উপর ওযূ ওয়াজিব নয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দুটি বিষয় এসেছে। প্রথমত, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সাঈদ ইবনু যায়দ-এর এক মৃত পুত্রকে হানূত বা মৃতের জন্য ব্যবহৃত সুগন্ধি লাগালেন এবং তাঁর লাশ বহন করলেন। এরপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করলেন, কিন্তু নতুন করে ওযূ করলেন না। দ্বিতীয়ত, মালিক (র)-কে বমি করলে ওযূ করতে হবে কি না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, না; তবে কুলি করবে এবং মুখ ধুবে। তাই এই হাদিসে দেখা যায়, লাশ বহন করা বা বমি হওয়া—এই দুটিকে সরাসরি ওযূ ওয়াজিব হওয়ার কারণ বলা হয়নি। তবে মুখে বমির প্রভাব থাকলে মুখ পরিষ্কার করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লাশ বহন করার পর ইবনু উমার (রাঃ) ওযূ না করে নামায আদায় করেছেন।
- বমি করলে ওযূ ওয়াজিব নয় বলে মালিক (র) উত্তর দিয়েছেন।
- বমির পর কুলি করা ও মুখ ধোয়ার কথা বলা হয়েছে।
- পবিত্রতার বিধানে যা বাধ্যতামূলক নয়, তাকে নিজের থেকে বাধ্যতামূলক বলা ঠিক নয়।
