২/৪. অধ্যায়ঃ
যাতে ওযূ ওয়াজিব হয় না
নারীর কাপড়ের ঝুল পবিত্র হওয়া: নোংরা রাস্তা পার হলে কী হবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ، إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ.
ইবরাহীম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ‘আউফ (র)- হতে বর্ণিতঃ
উম্মে ওয়ালাদ (তাঁর নাম হুমায়দা বলা হয়েছে) হতে বর্ণিত; তিনি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে-সালমা (রাঃ)-এর কাছে প্রশ্ন করলেন আমি একজন স্ত্রীলোক। আমি আমার কাপড়ের ঝুল লম্বা রাখি আর আমি কোন কোন সময় চলাফেরা করি আবর্জনাযুক্ত স্থান দিয়ে। উম্মে-সালমা (রা) বললেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কাপড়ের ঝুলকে আবর্জনাযুক্ত রাস্তার পরবর্তী স্থান পবিত্র করে দেবে। (সহীহ, আবূ দাঊদ ৩৮৩, তিরমিযী ১৪৩, ইবনু মাজাহ ৫৩১, আহমাদ ২৬৫৩১, আল্লামা আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, মিশকাত ৫০৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নারীর কাপড়ের ঝুল বা নিচের অংশ নিয়ে একটি বাস্তব প্রশ্নের উত্তর এসেছে। একজন নারী উম্মে সালমা (রাঃ)-কে বললেন, তিনি কাপড়ের ঝুল লম্বা রাখেন এবং কখনও আবর্জনাযুক্ত জায়গা দিয়ে চলেন। তখন উম্মে সালমা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী জানালেন, কাপড়ের ঝুলকে পরবর্তী স্থান পবিত্র করে দেবে। অর্থাৎ নোংরা জায়গা পার হওয়ার পর যদি কাপড় পরিষ্কার জায়গা দিয়ে চলে, তাহলে সেটি পবিত্রতার কারণ হয়—এই কথাই হাদিসে এসেছে। এখানে অযথা ভয় বা কষ্ট নয়; বরং দৈনন্দিন চলাফেরায় সহজতার শিক্ষা আছে। তবে বর্ণনার বাইরে গিয়ে সব ধরনের নাপাকির আলাদা বিচার এই হাদিসে বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীর লম্বা কাপড় নোংরা জায়গায় লাগলে পরের পরিষ্কার পথ পবিত্রতার কারণ হতে পারে।
- দৈনন্দিন চলাফেরায় পবিত্রতা নিয়ে অযথা কষ্ট না করার শিক্ষা আছে।
- উম্মে সালমা (রাঃ) সরাসরি নবীজির বাণী দিয়ে উত্তর দিয়েছেন।
- হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ব্যাখ্যায় ততটুকুই সীমা রাখা উচিত।
