১৪/২. অধ্যায়ঃ
শৌচকার্যের সময় কিবলাকে সামনে রাখার ব্যাপারে অনুমতি
শৌচকার্যে কিবলা: ইবনু উমার (রা)-এর বর্ণনার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৪২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৪২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ، إِنَّ أُنَاسًا يَقُولُونَ إِذَا قَعَدْتَ عَلَى حَاجَتِكَ فَلَا تَسْتَقْبِلْ الْقِبْلَةَ وَلَا بَيْتَ الْمَقْدِسِ قَالَ عَبْدُ اللهِ لَقَدْ ارْتَقَيْتُ عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَنَا فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ، ثُمَّ قَالَ لَعَلَّكَ مِنْ الَّذِينَ يُصَلُّونَ عَلَى أَوْرَاكِهِمْ قَالَ قُلْتُ لَا أَدْرِي وَاللهِ قَالَ مَالِك يَعْنِي الَّذِي يَسْجُدُ وَلَا يَرْتَفِعُ عَلَى الْأَرْضِ يَسْجُدُ وَهُوَ لَاصِقٌ بِالْأَرْضِ.
ওয়াসি’ ইবনু হাব্বান (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলতেন, কিছুসংখ্যক লোক বলে থাকে তুমি যখন তোমার আবশ্যকের জন্য (প্রসাব ও পায়খানার জন্য) বস, তখন কিবলা ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে সামনে করবে না। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, (একবার) আমি আমাদের গৃহের ছাদে চড়িলাম, তখন আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (তাঁর আবশ্যকের জন্য) দু’টি ইটের উপর উপবিষ্ট দেখলাম, বায়তুল মুকাদ্দাসকে সামনে রেখে। অতঃপর তিনি বলেন, সম্ভবত তোমরা তোমাদের পাছার উপর নামায পড়। রাবী (ওয়াসি’ ইবনু হাব্বান) বলেন, আমি বললামঃ আল্লাহর কসম, আমি জানি না ইহা দ্বারা কি বুঝিয়েছেন। তখন তিনি বললেন, অর্থাৎ যে জমির সাথে পাছা লাগিয়ে সিজদা করে (সে পাছার উপর নামায পড়ে)। (বুখারী ১৪৫, মুসলিম ২৬৬)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শৌচকার্যে কিবলা ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে সামনে করা নিয়ে ইবনু উমার (রা)-এর একটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেন, কিছু লোক বলত, প্রস্রাব-পায়খানার জন্য বসলে কিবলা ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে সামনে করা যাবে না। এরপর তিনি নিজের দেখা একটি ঘটনা বলেন। তিনি ঘরের ছাদে উঠে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুই ইটের উপর বসা অবস্থায় দেখেন, আর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ছিলেন। হাদিসের শেষে সিজদা করার ভঙ্গি নিয়েও একটি ব্যাখ্যা এসেছে। এই বর্ণনাটি আমাদের শেখায়, কোনো বিষয়ে কথা বলার সময় সাহাবীরা দেখা ও শোনা তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় বিষয়ে দেখা ও জানা কথার ভিত্তিতে আলোচনা করা উচিত।
- ইবনু উমার (রা) নিজের দেখা ঘটনা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
- নামাজে সিজদার ভঙ্গি ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
