১৩/৩. অধ্যায়ঃ
নক্ষত্রের সাহায্যে বৃষ্টি প্রার্থনা
বৃষ্টি আল্লাহর রহমত: নক্ষত্র নয়, অনুগ্রহের স্বীকৃতি
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৩৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৩৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ، صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنْ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ أَتَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِي فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ.
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (র) হতে বর্ণিতঃ
হুদায়বিয়ায় রাত্রে বৃষ্টি হয়েছিল ও এর চিহ্ন সকালেও বিদ্যমান ছিল, সে অবস্থায় রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ালেন। যখন নামায সমাপ্ত করলেন, তখন পবিত্র মুখমণ্ডল লোকের দিকে করলেন এবং বললেন, তোমরা অবগত আছ কি তোমাদের প্রভু কি বলেছেন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল অধিক অবগত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (আল্লাহ) বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্য হতে কিছুসংখ্যক লোক প্রভাত করেছে আমার প্রতি ঈমান (বিশ্বাস) রেখে, আর (কিছুসংখ্যক) প্রভাত করেছে আমার সাথে কুফরী করে। যে বলেছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি মু’মিন রয়েছে, আর নক্ষত্রের প্রতি অস্বীকারী হয়েছে। আর যে বলেছে, অমুক নক্ষত্রের দ্বারা বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি অস্বীকারকারী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে। (বুখারী ৮৪৬, মুসলিম ৭১)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুদায়বিয়ার রাতের বৃষ্টির পর নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। তিনি ফজরের নামাজ পড়ানোর পর মানুষের দিকে মুখ করে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। এরপর নবীজি (সা.) জানালেন, কিছু বান্দা আল্লাহর প্রতি ঈমান রেখে সকাল করেছে, আর কিছু বান্দা কুফরীর অবস্থায় সকাল করেছে। যে বলেছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের ওপর বৃষ্টি হয়েছে, সে আল্লাহর প্রতি মুমিন এবং নক্ষত্রের প্রতি অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে, অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে, সে আল্লাহকে অস্বীকার করেছে এবং নক্ষত্রে বিশ্বাস করেছে। তাই বৃষ্টির ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বাসের ভাষা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত হিসেবে স্বীকার করা উচিত।
- বৃষ্টিকে নক্ষত্রের ক্ষমতার দিকে সম্পর্ক করা কঠিন সতর্কতার বিষয়।
- নবীজি (সা.) নামাজের পর মানুষের বিশ্বাস সংশোধন করেছেন।
- দৈনন্দিন ঘটনার ভাষাতেও ঈমানের পরিচয় প্রকাশ পায়।
