২/৩. অধ্যায়ঃ
ওযূর জন্য পবিত্র পানি ব্যবহার করা
বিড়াল নাপাক নয়: বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি দিয়ে ওযূর শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ خَالَتِهَا كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهَا أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ لِتَشْرَبَ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا الْإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي قَالَتْ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنْ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوْ الطَّوَّافَاتِ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك لَا بَأْسَ بِهِ إِلَّا أَنْ يُرَى عَلَى فَمِهَا نَجَاسَةٌ.
কাব্শাহ্ বিনতে কাব ইবনু মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
আবূ কাতাদা (রাঃ) তাঁর কাছে এলেন। কাব্সা তাঁর জন্য ওযূর পানি ঢালতেছিলেন। এমন সময় একটি বিড়াল উহা হতে পানি পানের জন্য এল। আবূ কাতাদা পানির পাত্র এর জন্য কাত করলেন, বিড়াল পানি পান করল। কাবসা বলেন, তিনি আমাকে দেখলেন আমি খুব বিস্ময়ের সাথে তাঁর দিকে দেখতেছি। তাই তিনি বললেন, হে ভাতিজী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করতেছ? আমি (উত্তরে) বললাম হ্যাঁ। তারপর তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিড়াল নাপাক নয়, এটা তোমাদের আশেপাশে যাঁরা অধিক ঘোরাফেরা করে, তাদের অন্তর্ভুক্ত।মালিক (র) বলেন, বিড়ালের মুখে নাজাসত (নাপাকী) না থাকলে উহার মুখ (পাত্রে) দেয়াতে কোন ক্ষতি নেই। (সহীহ, আবূ দাউদ ৭৫, তিরমিযী ৯২, নাসাঈ ৬৮, ইবনু মাজাহ ৩৬৭, আহমাদ ২২৫৮১, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ জামে ২৪৩৭)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিড়ালের পবিত্রতা সম্পর্কে সুন্দর ও সহজ শিক্ষা এসেছে। আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর জন্য ওযূর পানি রাখা হয়েছিল। একটি বিড়াল এসে সেই পানি পান করতে চাইলে তিনি পাত্র কাত করে দিলেন, যেন বিড়ালটি পান করতে পারে। কাবশা (রাঃ) বিষয়টি দেখে অবাক হলে আবূ কাতাদা (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিড়াল নাপাক নয়; কারণ এটি তোমাদের আশেপাশে বেশি ঘোরাফেরা করে। মালিক (র) আরও বলেন, বিড়ালের মুখে নাপাকি দেখা না গেলে তার মুখ দেওয়া পাত্রে সমস্যা নেই। তাই এই হাদিস ঘরের পোষা বা আশপাশে থাকা বিড়াল নিয়ে অযথা কষ্ট না করার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিড়াল নিজে নাপাক নয় বলে হাদিসে বলা হয়েছে।
- বিড়াল ঘরের আশপাশে বেশি চলাফেরা করে; তাই এ বিষয়ে সহজ বিধান এসেছে।
- বিড়ালের মুখে নাপাকি দেখা গেলে আলাদা সতর্কতার কথা মালিক (র) উল্লেখ করেছেন।
- পবিত্রতার বিষয়ে অকারণ সন্দেহ না করে দলিলভিত্তিক আমল করা উচিত।
