২/২. অধ্যায়ঃ
ঘুম হতে জেগে ওযূ করে নামায আদায়ের ইচ্ছা করলে
কীসে ওযূ ভঙ্গ হয়: রক্ত, পুঁজ ও নিদ্রা নিয়ে সহজ ব্যাখ্যা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪১
-قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ رُعَافٍ وَلَا مِنْ دَمٍ وَلَا مِنْ قَيْحٍ يَسِيلُ مِنْ الْجَسَدِ وَلَا يَتَوَضَّأُ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ يَخْرُجُ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ دُبُرٍ أَوْ نَوْمٍ৫৮ - و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَنَامُ جَالِسًا ثُمَّ يُصَلِّي وَلَا يَتَوَضَّأُ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের ফয়সালা এই নাক দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হলে, শরীর হতে খুন নির্গত হলে এবং পুঁজ বহির্গত হলে ওযূ করতে হবে না।হাদস যাহাতে ওযূ নষ্ট হয়, এর কারণে অযূ করতে হবে; যা বের হয় গুহ্যদ্বার অথবা জননেন্দ্রীয় হতে অথবা নিদ্রার কারণে।নাফি’ (র) হতে বর্ণিত; ইবনু উমার (রাঃ) বসা অবস্থায় ঘুমাতেন। অতঃপর ওযূ না করে নামায আদায় করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওযূ ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার দিকনির্দেশনা এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হলে বা পুঁজ বের হলে ওযূ করতে হবে না। বরং ওযূ তখনই প্রয়োজন হয়, যখন হাদস ঘটে; অর্থাৎ গুহ্যদ্বার বা জননেন্দ্রীয় থেকে কিছু বের হয়, অথবা নিদ্রার কারণে ওযূর অবস্থা নষ্ট হয়। একই বর্ণনায় ইবনু উমার (রাঃ)-এর আমলও এসেছে। তিনি বসা অবস্থায় ঘুমাতেন, তারপর ওযূ না করে নামায আদায় করতেন। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, পবিত্রতার বিধান অনুমান দিয়ে নয়; বরং যে বিষয়কে হাদস বলা হয়েছে, সেটিকেই ওযূ ভঙ্গের কারণ ধরা হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নাকের রক্ত, শরীরের রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া এই বর্ণনা অনুযায়ী ওযূ ভঙ্গের কারণ নয়।
- ওযূ ভঙ্গের মূল কারণ হলো হাদস, যা লজ্জাস্থান বা গুহ্যদ্বার থেকে বের হয়।
- বসা অবস্থায় ঘুমের বিষয়ে ইবনু উমার (রাঃ)-এর আমল হাদিসে সরাসরি উল্লেখ হয়েছে।
- পবিত্রতার মাসআলা বুঝতে অনুমান নয়, বর্ণিত দলিলকে গুরুত্ব দিতে হয়।
