৯/২৪. অধ্যায়ঃ
নামায সম্পর্কিত বিবিধ আহ্কাম
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: পবিত্রতার নদীর মতো শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪০৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪০৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَجُلَانِ أَخَوَانِ فَهَلَكَ أَحَدُهُمَا قَبْلَ صَاحِبِهِ بِأَرْبَعِينَ لَيْلَةً فَذُكِرَتْ فَضِيلَةُ الْأَوَّلِ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَمْ يَكُنْ الْآخَرُ مُسْلِمًا قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ وَكَانَ لَا بَأْسَ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يُدْرِيكُمْ مَا بَلَغَتْ بِهِ صَلَاتُهُ إِنَّمَا مَثَلُ الصَّلَاةِ كَمَثَلِ نَهْرٍ غَمْرٍ عَذْبٍ بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَقْتَحِمُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ فَمَا تَرَوْنَ ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ مَا بَلَغَتْ بِهِ صَلَاتُهُ.
সা’দ ইবনু আবি ওয়াককাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
দু’জন লোক পরস্পর ভাই ভাই, (ঘটনাক্রমে) তাঁদের মধ্যে এক ভাই মৃত্যুবরণ করেন অপর ভাইয়ের চল্লিশ রাত্রি পূর্বে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে প্রথম (মৃত্যুবরণকারী) ভাইয়ের ফযীলত আলোচিত হয়। তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দ্বিতীয় ভাই কি মুসলমান ছিলেন না ? (উপস্থিত) সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ (তিনিও মুসলমান ছিলেন), ইয়া রসূলুল্লাহ্! আর তিনি মন্দলোক ছিলেন না। (এটা শ্রবণ করার পর) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা জান না, তাঁর নামায তাকে কোন স্তরে পৌঁছিয়েছে। অবশ্য নামাযের দৃষ্টান্ত হল তোমাদের একজনের দ্বারে অবস্থিত গভীর, পরিপূর্ণ সুমিষ্ট পানির নহরের মত। উক্ত নহরে দৈনিক পাঁচবার যে অবগাহন করে এতে তোমার কি ধারণা, তার দেহে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে ? অবশ্য তোমরা জান না যে, তার নামায তাঁকে মর্যাদার কোন স্তরে নিয়ে পৌঁছিয়েছে। (হাদীসে বর্ণিত ঘটনাটি -------- ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন। বুখারী ৫২৮, আর ইমাম মুসলিম, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন মুসলিম ৬৬৭)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মর্যাদা। দুই ভাইয়ের একজন অন্যজনের চল্লিশ রাত আগে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথম ভাইয়ের ফজিলত আলোচনা হলে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় ভাই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি মুসলমান ছিলেন না? এরপর তিনি বললেন, তোমরা জান না, তার নামাজ তাকে কোন স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি নামাজের উদাহরণ দিলেন এমন এক গভীর, ভরা এবং সুমিষ্ট পানির নদীর সঙ্গে, যা কারো দরজার সামনে আছে; কেউ যদি দিনে পাঁচবার সেখানে গোসল করে, তার দেহে ময়লা থাকে কি? এই তুলনা নামাজের নিয়মিত প্রভাব বুঝায়। তবে কে কত মর্যাদায় পৌঁছাল, তা নিশ্চিতভাবে আল্লাহই জানেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।
- কারো মর্যাদা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
- নিয়মিত নামাজ আত্মশুদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
