৯/৮. অধ্যায়ঃ

সালাতুয যুহা (চাশ্ত ও ইশরাকের নামায)

উম্মুহানীর আশ্রয় ও চাশতের নামাজ: নবীজির দয়া ও শালীনতা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৩৪৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ تَقُولُ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ ابْنَتُهُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ قَالَتْ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ هَذِهِ فَقُلْتُ أُمُّ هَانِئٍ بِنْتُ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي عَلِيٌّ أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلًا أَجَرْتُهُ فُلَانُ بْنُ هُبَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ قَالَتْ أُمُّ هَانِئٍ وَذَلِكَ ضُحًى.

উম্মুহানী বিনতে আবি তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি মক্কা বিজয়ের সালে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে গমন করলাম। আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গোসল করতে দেখলাম। তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দিয়ে তাঁর জন্য পর্দা করেছেন। তিনি বললেন, আমি গিয়ে তাঁর উদ্দেশ্যে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললাম। তিনি ফরমালেন ইনি কে? আমি বললাম আবূ তালিবের কন্যা উম্মুহানী। তখন তিনি বললেন, উম্মুহানীর জন্য মারহাবা (খোশ আমদেদ)। তিনি যখন গোসল সমাপ্ত করলেন, একটি মাত্র কাপড় জড়িয়ে আট রাক’আত নামায আদায় করলেন। নামায হতে প্রত্যাবর্তন করলে আমি বললাম আমার ভাই আলী (রাঃ) বলেছেন, সে এমন এক ব্যক্তিকে কতল করবে, যাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি। সে হচ্ছে হুবায়রার সন্তান ‘অমুক’ (তাবরানীর মতে সে হুবাইরার চাচাত ভাই)। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘উম্মুহানী, তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমিও তাকে আশ্রয় দিলাম। উম্মুহানী বলেন, সময়টি ছিল চাশতের। (বুখারী ৩৫৭, মুসলিম ৩৩৬)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৩৪৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উম্মুহানী (রাঃ) মক্কা বিজয়ের দিনের একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর কাছে যান এবং তাঁকে গোসলরত অবস্থায় পান। ফাতিমা (রাঃ) কাপড় দিয়ে পর্দা করেছিলেন। নবীজি صلى الله عليه وسلم তাঁকে সালামের জবাবে চিনে নেন এবং মারহাবা বলে সম্মান দেখান। গোসল শেষে তিনি একটি মাত্র কাপড় জড়িয়ে আট রাকআত নামাজ আদায় করেন। এরপর উম্মুহানী (রাঃ) জানান, তিনি একজনকে আশ্রয় দিয়েছেন, আর আলী (রাঃ) তাকে হত্যা করতে চাইছেন। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম। এই হাদিসে চাশতের সময়, আট রাকআত নামাজ, পর্দা, সালাম, অতিথি সম্মান এবং আশ্রয় রক্ষার শিক্ষা একসাথে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি صلى الله عليه وسلم উম্মুহানী (রাঃ)-কে সম্মান দিয়ে গ্রহণ করেছেন।
  • গোসলের সময় পর্দা করার শালীনতা এই বর্ণনায় দেখা যায়।
  • আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে নবীজি صلى الله عليه وسلم গুরুত্ব দিয়েছেন।
  • চাশতের সময়ে আট রাকআত নামাজ আদায়ের ঘটনা এখানে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন