৮/৭. অধ্যায়ঃ
বসে নামায আদায়
ইহতিবা অবস্থায় নফল নামাজ: বসে ইবাদতের একটি বর্ণনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩০৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৩০৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ وَسَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ كَانَا يُصَلِّيَانِ النَّافِلَةَ وَهُمَا مُحْتَبِيَانِ.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উরওয়া ইবনু যুবায়র (রাঃ) ও সাঈদ্ ইবনু মুসায়্যাব (র) তাঁরা দু’জনেই নফল নামায বসে আদায় করতেন ইহতিবা-এর অবস্থায়। (ইহতিবা হল দুই হাঁটুকে পেটের সাথে লাগিয়ে হাত দিয়ে বেড়ি করে বসা।) (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৩০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এসেছে, উরওয়া ইবনু যুবায়র (রাঃ) ও সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) নফল নামাজ বসে আদায় করতেন ইহতিবা অবস্থায়। ইহতিবা বলতে দুই হাঁটু পেটের সঙ্গে লাগিয়ে হাত দিয়ে বেঁধে বসাকে বোঝানো হয়েছে। এখানে কোনো ফরজ নামাজের কথা বলা হয়নি; বর্ণনাটি নফল নামাজের বিষয়ে। তাই ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও সীমা রাখা দরকার। হাদিসটি দেখায়, নফল নামাজে বসে আদায়ের কিছু পদ্ধতি সাহাবি ও তাবেঈদের আমলে দেখা গেছে। তবে এই বর্ণনা থেকে অতিরিক্ত বিধান বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো—নফল ইবাদতে মনোযোগ রেখে, শরীরের অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে বসে নামাজ পড়ার একটি দৃষ্টান্ত এখানে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনাটি নফল নামাজের বিষয়ে, ফরজ নামাজের নয়।
- ইহতিবা অবস্থায় বসে নফল নামাজ পড়ার দৃষ্টান্ত এসেছে।
- ইবাদতের ব্যাখ্যায় হাদিসের কথার বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
- নফল নামাজে সহজতার কিছু আমল পূর্ববর্তী নেককারদের মধ্যে পাওয়া যায়।
