৮/৭. অধ্যায়ঃ
বসে নামায আদায়
বসে তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম: নবীজির রাত্রের নামাযের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৩০১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৩০১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا لَمْ تَرَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي صَلَاةَ اللَّيْلِ قَاعِدًا قَطُّ حَتَّى أَسَنَّ فَكَانَ يَقْرَأُ قَاعِدًا حَتَّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَقَرَأَ نَحْوًا مِنْ ثَلَاثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً ثُمَّ رَكَعَ.
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
; তিনি বলেছেন, বয়স বেশি না হওয়া পর্যন্ত তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাত্রের নামায (তাহাজ্জুদ) বসে আদায় করতে দেখেননি। (বয়ঃবৃদ্ধির পর) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে নামায আদায় করতেন। তবে যখন রুকূ করতে মনস্থ করতেন, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তারপর অন্তত ত্রিশ-চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন, তারপর রুকূ করতেন। (বুখারী ১১১৮, মুসলিম ৭৩১)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৩০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাত্রের নামায বা তাহাজ্জুদ নামাজের একটি আমল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বয়স বেশি হওয়ার আগে তিনি নবীজিকে রাত্রের নামায বসে আদায় করতে দেখেননি। বয়স বাড়ার পর তিনি বসে নামায পড়তেন। তবে রুকূ করতে চাইলে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে ত্রিশ-চল্লিশ আয়াতের মতো তিলাওয়াত করতেন, তারপর রুকূ করতেন। এখান থেকে বোঝা যায়, নফল নামাজে বসে কিরাআত করা এবং রুকূর আগে দাঁড়ানো—এটি নবীজির আমলের মধ্যে এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, শরীরের অবস্থা বদলালে ইবাদতের পদ্ধতিতে সহজতা গ্রহণ করা যায়, তবে নামাজের আদব ও মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বয়স বা শারীরিক অবস্থার কারণে নফল নামাজ বসে আদায় করা যায়।
- নবীজি বসে কিরাআত করলেও রুকূর আগে দাঁড়িয়ে কিছু আয়াত পড়তেন।
- রাত্রের নামাযে দীর্ঘ কিরাআত নবীজির আমলের অংশ ছিল।
- ইবাদতে সহজতা আছে, তবে নামাজের নিয়ম ও ভক্তি বজায় রাখতে হয়।
