৬/২. অধ্যায়ঃ
কিয়াম-এ রমাযান বা তারাবীহর নামাযের বর্ণনা
এগার রাকআত তারাবীহ: দীর্ঘ কিরাআত ও রাতের ইবাদত
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২৪৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৪৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ قَالَ، أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلَّا فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ.
সায়িব ইবনু ইয়াযিদ (র) হতে বর্ণিতঃ
উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-উবাই ইবনু কা’ব এবং তামীমদারী (রাঃ)-কে লোকজনের (মুসল্লিগণের) জন্য এগার রাক’আত (তারাবীহ) কায়েম করতে (পড়াইতে) নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারী একশত আয়াতবিশিষ্ট সূরা পাঠ করতেন, আর (আমাদের অবস্থা এই ছিল) আমরা নামায দীর্ঘ সময় দাঁড়াইতে দাঁড়াইতে (ক্লান্ত হয়ে পড়লে) সাহায্য গ্রহণ করতাম অর্থাৎ লাঠির উপর ভর দিতাম। (এইভাবে নামায পড়তে পড়তে রাত শেষ হত) আমরা ভোর হওয়ার কিছু পূর্বে ঘরে ফিরে আসতাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমার ইবনু খাত্তাব রাঃ-এর সময়ে তারাবীহ নামাজের একটি চিত্র পাওয়া যায়। তিনি উবাই ইবনু কা’ব রাঃ এবং তামীমদারী রাঃ-কে লোকদের জন্য এগার রাকআত কায়েম করতে নির্দেশ দেন। বর্ণনায় এসেছে, কারী একশত আয়াতবিশিষ্ট সূরা পাঠ করতেন। নামাজ এত দীর্ঘ হতো যে, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মুসল্লিরা লাঠির উপর ভর দিতেন। আবার নামাজ শেষ হতে হতে ভোর হওয়ার কিছু পূর্বে তারা ঘরে ফিরতেন। এই বর্ণনা তারাবীহর রাকআত, দীর্ঘ কিরাআত এবং ধৈর্যের সঙ্গে রাতের ইবাদতের চিত্র তুলে ধরে। তবে এখানে মূল গুরুত্ব হলো ইবাদতের গভীরতা, কুরআন তিলাওয়াতের দীর্ঘতা এবং রমযানের রাতে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তারাবীহতে দীর্ঘ কিরাআতের একটি দৃষ্টান্ত এখানে পাওয়া যায়।
- সাহাবী যুগে রাতের ইবাদতে ধৈর্য ও মনোযোগ ছিল।
- এগার রাকআত তারাবীহর উল্লেখ এই বর্ণনায় এসেছে।
- কুরআন তিলাওয়াত রাতের নামাজের বড় সৌন্দর্য।
