৬/১. অধ্যায়ঃ
রমাযানের নামায (তারাবীহ) আদায়ের জন্য উৎসাহ প্রদান
তারাবীহ নামাজের ফজিলত: ঈমান ও সওয়াবের আশায় কিয়াম
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২৪১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৪১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَ بِعَزِيمَةٍ فَيَقُولُ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ.
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের তারাবীহর জন্য ওয়াজিব নামাযের মত নির্দেশ দান করতেন না বটে, কিন্তু এটার জন্য অধিক উৎসাহ প্রদান করতেন এবং ফরমাইতেন যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব-এর (অর্থাৎ আল্লাহর উপর ঈমানসহ ও সওয়াবের আশায়) সাথে রমাযানের তারাবীহ আদায় করবে তার বিগত সমুদয় (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারী ২০০৮, মুসলিম ৭৫৯)ইবনু শিহাব (যুহরী) (র) বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পরও তারাবীহর অবস্থা এইরূপই ছিল। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর খিলাফতকালে এবং উমার ইবনু খাত্তাব (র)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে (তারাবীহর) অবস্থা অনুরূপই ছিল।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, রমযানের তারাবীহ নামাজ খুব মূল্যবান নফল ইবাদত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে ফরয নামাজের মতো বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেননি, কিন্তু মানুষকে এ নামাজের প্রতি বেশি উৎসাহ দিতেন। এখানে দুইটি শব্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ—ঈমান ও ইহতিসাব। অর্থাৎ বান্দা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে, লোক দেখানোর জন্য নয়; বরং সওয়াবের আশায় রমযানের কিয়াম করবে। হাদিসে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তির বিগত সগীরা গুনাহ ক্ষমা করা হবে। ইবনু শিহাবের বর্ণনায় আরও এসেছে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর, আবূ বকর সিদ্দীক রাঃ-এর সময় এবং উমার রাঃ-এর খিলাফতের প্রথম দিকেও তারাবীহর অবস্থা একইভাবে ছিল। তাই এই হাদিস তারাবীহর ফজিলত, নিয়ত ও ইখলাস—এই তিনটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তারাবীহ ফরযের মতো বাধ্যতামূলক নয়, তবে এর প্রতি নববী উৎসাহ আছে।
- রমযানের কিয়ামে ঈমান ও সওয়াবের আশা থাকা জরুরি।
- হাদিসে সগীরা গুনাহ ক্ষমার আশার কথা বলা হয়েছে।
- ইবাদতের মূল্য বাহ্যিক পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়তের সাথেও যুক্ত।
